২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় দিশেহারা জেলেরা, ভিজিএফ নিয়ে ক্ষোভ

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনাপাড়ের জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার হারিয়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে দিন কাটাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা। জেলেদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তার তালিকায় প্রকৃত জেলেদের সবাই অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অনেকেই।
বিজ্ঞাপন
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে জেলেদের জন্য ভিজিএফ সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, কমলনগর উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার জেলে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ১১ হাজার থেকে সাড়ে ১১ হাজার জেলে ভিজিএফ সুবিধার আওতায় রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে বলে জানান জেলেরা। ফলে তালিকার বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক জেলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, ২২ দিন নদীতে মাছ ধরতে না পারলে তাঁদের কোনো আয় থাকবে না। সংসারের খাবার, সন্তানদের খরচ এবং সমিতির কিস্তি পরিশোধ নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এক জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার আমাদের মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে, ভালো কথা। কিন্তু আমাদের পেটের ভাতের ব্যবস্থা করছে না। ভিজিএফের তালিকায় প্রকৃত জেলেদের নাম নেই।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জেলেদের ভাষ্য, নদীতে মাছ ধরাই তাঁদের প্রধান জীবিকা। নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় পরিবার নিয়ে তাঁদের ধারদেনা করে চলতে হয়। তাই শুধু চাল বিতরণ নয়, নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়ের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা চান তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সব জেলেকে ভিজিএফের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেলেদের প্রতি আমাদের সুদৃষ্টি আছে। আমরা চেষ্টা করব তাঁদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য।
জেলেদের দাবি, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তাঁরা মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে এ সময়ে পরিবার চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ভিজিএফ সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।








