মা ইলিশ ধরলেই ৬ মাসের কারাদণ্ড, বাতিল হবে জেলে কার্ড

প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শাস্তির আওতায় থাকা জেলেদের জেলে কার্ডও বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা জানান।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে যারা নদীতে নামবেন না এবং মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকবেন, তাদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। চাঁদপুরের ৪১ হাজার ৩৯০ জন জেলে এ সহায়তা পাবেন। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ কমানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ইলিশের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা জরুরি। টাস্কফোর্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের সমন্বয় থাকলে অভিযান সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে।
এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। অভয়াশ্রম এলাকায় মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।








