Logo

সাংবাদিক কাজলের পৈতৃক বাড়ির দেয়াল ভাঙচুর, গাছ কাটার অভিযোগ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
মেহেরপুর
১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:৪৪
সাংবাদিক কাজলের পৈতৃক বাড়ির দেয়াল ভাঙচুর, গাছ কাটার অভিযোগ
সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুর শহরে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের পৈতৃক বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা এবং আঙিনার একাধিক নারকেলগাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের এক সদস্যকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। কাজলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন কয়েকজন ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিকের অভিযোগ অনুযায়ী, মেহেরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ হামিদ সড়কে অবস্থিত তাঁদের বাড়ির প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো সীমানাপ্রাচীর গত ১১ জুন ভেঙে ফেলা হয়। এরপর গত ১০ অক্টোবর বাড়ির আঙিনায় থাকা একাধিক নারকেলগাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম কাজল একজন ফটোসাংবাদিক এবং সাপ্তাহিক ‘পক্ষকাল’-এর সম্পাদক। ২০২০ সালে ৫৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকার ঘটনাতেও তিনি আলোচনায় আসেন।

সাংবাদিক কাজল জানান, তিনি ও তাঁর ভাই শহিদুল ইসলাম শাহিন দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। তাঁদের পৈতৃক বাড়িতে বর্তমানে বসবাস করছেন তাঁদের বিধবা বোন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা দেশের বাইরে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।

বিজ্ঞাপন

কাজলের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন বাড়িটির প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় তাঁর বোন বাধা দিতে গেলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় আবদুল করিম ওরফে গুড়ু, মতিউর রহমান, বিল্টু, মন্টু ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন কাজল। তাঁদের সঙ্গে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেই পরিচয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সীমানাপ্রাচীর ভাঙার ঘটনার কয়েক মাস পর গত ১০ অক্টোবর বাড়ির আঙিনায় থাকা একাধিক বড় নারকেলগাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক কাজল।

কাজল জানান, নারকেলগাছগুলো তাঁর মা নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলোর সঙ্গে পরিবারের স্মৃতি জড়িয়ে ছিল। সেগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তাঁর দাবি, সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর এবং নারকেলগাছ কেটে নেওয়ার ঘটনাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পৈতৃক সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এসব করা হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক কাজল জানান, তিনি মেহেরপুর জেলা পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ সুপারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান কাজল। তবে তাঁর দাবি, কামরুল ইসলাম বিষয়টি এড়িয়ে যান।

পৈতৃক বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, গাছ কেটে নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পরও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক কাজল।

বিজ্ঞাপন

তবে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়েছে কি না, পুলিশ কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক কাজলের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তাঁর পৈতৃক বাড়ি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং মেহেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মোতাসিম বিল্লাহ মতুর নাম উল্লেখ করেন কাজল।

বিজ্ঞাপন

তবে অতীতের এসব অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে বর্তমান অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পৈতৃক সম্পত্তি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল বলেন, “আমার মায়ের হাতে লাগানো নারকেলগাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য জোর করে আমাদের জায়গা দখল করে নেওয়া। আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকে না। থানায় গিয়ে অভিযোগ করার মতো লোকও নেই।”

কাজল আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে গুম ও কারাবরণের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও নিজের পৈতৃক সম্পত্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ দূর হয়নি বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD