লামায় তিন স্কুলছাত্রী নিখোঁজ, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছার মুখ এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে তিন স্কুলছাত্রী। গত ১১ অক্টোবর রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। এদিকে নিখোঁজ কিশোরীদের অবস্থান শনাক্ত ও নিখোঁজ হওয়ার কারণ জানতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।
নিখোঁজ তিন কিশোরী হলো ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়ার আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) এবং বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া। তানিয়া ও সাদিয়া ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রেশমি একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি ছাড়ে। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরিবারের দাবি, রেশমি আক্তার মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তবে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, নিখোঁজ তিন কিশোরীর কেউই সেখানে সার্টিফিকেট নিতে যায়নি। ফলে কী কারণে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং এরপর কোথায় গেছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গত রোববার সকালে মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়। তাদের মধ্যে দুজন সপ্তম শ্রেণির এবং একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিজ্ঞাপন
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ তারা নিজ নিজ শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল। এরপর আর বিদ্যালয়ে আসেনি। সোমবার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ তাদের সন্ধানে অনুসন্ধান শুরু করে। কিশোরীদের চকরিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও সেখানে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
একসঙ্গে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ কিশোরীদের দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিজ্ঞাপন
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ উদ্ঘাটন ও সন্ধান পেতে পুলিশ কাজ করছে।








