সাতক্ষীরায় সাত দিনে তিন মৃত্যু, মব সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ

সাতক্ষীরায় এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাছ চুরির সন্দেহ, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনায় গণপিটুনির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বিজ্ঞাপন
তালা উপজেলার জেয়ালা এলাকায় মাছ চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মণ্ডল (৫৩) নামে এক ঘের ব্যবসায়ীকে গাছে বেঁধে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোররাতে জেয়ালা গ্রামের উত্তর খোলা বিলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ক্ষিতিশ মণ্ডল তালা সদরের জেয়ালা গ্রামের মৃত মনীন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে।
নিহতের চাচাতো ভাই পার্থ মণ্ডলের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে জেয়ালা শ্মশানঘাট এলাকায় নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় ১০ থেকে ১৫ জন জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
পার্থ মণ্ডলের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনে ক্ষিতিশের হাত-পা ভেঙে যায় এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
দেবহাটায় শামীম নামে এক ব্যক্তিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুই দফায় গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করে লোকজন জড়ো করা হয়। পরে তাঁকে মারধর করা হয়।
বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পরও সেখানে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে আবারও পেটানো হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও বিশ্লেষণের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক আমিনী তাঁর ‘Fh Ameni’ নামের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে লোকজন জড়ো করতে দুই দফা লাইভ সম্প্রচার করেন। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
শ্যামনগর পৌরসভার বাদঘাটা গ্রামে রমেশ মণ্ডল (২৯) নামে এক যুবকের দায়ের কোপে সুধা রানী মণ্ডল (৫৮) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রমেশের মা কমলা রানী মণ্ডল এবং তাঁর চাচাতো ভাই সমীর মণ্ডল গুরুতর আহত হন।
রমেশের স্ত্রী, কন্যা ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে তিনি এ হামলা চালান। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
বিজ্ঞাপন
নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, সাতক্ষীরায় সাম্প্রতিক সময়ে মব সহিংসতা বেড়েছে। ধর্মীয় ব্যাখ্যা বা অভিযোগকে কেন্দ্র করে মানুষের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মুখপাত্র আবু সালেহ বলেন, মব সহিংসতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক তিনটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ উদ্বিগ্ন। এসব ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।








