‘সাদপন্থীরা সন্ত্রাসী, তাদের টঙ্গীতে ইজতেমা করার অধিকার নেই’

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখাসহ দুটি দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখরা। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়া এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৪ অক্টোবর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেড পয়েন্টে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরামর্শ সভায় এসব দাবি জানান আলেমরা। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে আয়োজিত সভায় ৬৪ জেলার নেতৃস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও শীর্ষ মুরুব্বিরা অংশ নেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, সাদপন্থীরা সন্ত্রাসী। এই ইজতেমা তাবলিগি ইজতেমা, এই টঙ্গীতে কোন সন্ত্রাসীদের ইজতেমা করার কোন অধিকার নেই।
সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান এসব তথ্য জানান।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নে আয়োজনের লক্ষ্যে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাদপন্থীদের এবারের ইজতেমা আয়োজনের জন্য তিন দিন ময়দান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জাতীয় পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় অংশ নেওয়া আলেম ও মুরুব্বিদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম দাবিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে।
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয় দাবিতে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভায় জানানো হয়, মামলাগুলো বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের বিষয়টি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার মাদরাসা, মারকাজ ও অন্যান্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে দোয়ার আয়োজন করতে ওলামায়ে কেরাম ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
সভায় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শাহ সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীরসাহেব মধুপুর, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন ও মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকসহ বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেম ও মুরুব্বিরা।








