Logo

দাফনের জায়গা না থাকায় বসতঘরেই কবর হলো আব্দুল করিমের

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
শেরপুর
২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২
দাফনের জায়গা না থাকায় বসতঘরেই কবর হলো আব্দুল করিমের
ছবি: সংগৃহীত

নিজের বলতে ছিল ছোট্ট একটি বসতঘর। জীবদ্দশায় সেই ঘরেই কেটেছে দিন, আর মৃত্যুর পর কবরের জায়গা না পেয়ে সেই ঘরের মেঝেতেই দাফন করা হলো ৬০ বছর বয়সী আব্দুল করিমকে। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটী ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে ঘটেছে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আব্দুল করিম ওই গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, আব্দুল করিমের সম্বল ছিল একটি ছাপরা বসতঘর। বাড়তি জমি কিংবা ফসলি জমি কিছুই ছিল না তাঁর। অন্যদিকে শালমারা গ্রামে বিত্তবান পরিবারগুলোর নিজস্ব কবরস্থান থাকলেও সাধারণ ও ভূমিহীন মানুষের জন্য নেই কোনো সামাজিক বা সর্বজনীন কবরস্থান।

এ কারণে গ্রামের ভূমিহীন পরিবারগুলোতে কেউ মারা গেলে দাফনের জায়গা নিয়ে সংকট তৈরি হয়। অনেক সময় বাড়ির উঠান কিংবা ঘরের পাশেই মরদেহ দাফন করতে হয় স্বজনদের। আব্দুল করিমের বাড়িতে ঘরের বাইরেও কোনো খালি জায়গা না থাকায় শেষ পর্যন্ত ঘরের মেঝে খুঁড়ে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের কাছে শালমারা গ্রামে একটি সর্বজনীন গণকবরস্থান করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। আজ নিজস্ব জমি না থাকায় আব্দুল করিমকে তার নিজের ঘরেই দাফন করতে হলো। এটি একটি সভ্য সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক ও অত্যন্ত দুঃখজনক দৃশ্য।’

বাবাকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন মেয়ে রিক্তা পারভীন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমাদের বসতঘর ছাড়া বাইরে আর কোনো জমি নেই। চরম নিরুপায় হয়ে বাবাকে নিজের ঘরের মেঝেতেই দাফন করতে হয়েছে। আমাদের পরিবারের মতো অন্য কোনো স্বজনকে যেন এমন নির্মম পরিস্থিতির শিকার হয়ে ঘরে দাফন করতে না হয়, সেজন্য গ্রামে অবিলম্বে একটি সরকারি গণকবরস্থান প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি সামনে আসার পর মরদেহটি অন্যত্র সম্মানের সঙ্গে পুনরায় দাফনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। তাতিহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ জানান, শালমারা গ্রামে গণকবরস্থান না থাকার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। মঙ্গলবার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ষাইটকাকড়া এলাকার একটি গণকবরস্থানে মরদেহ পুনরায় দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ বলেন, ওই ওয়ার্ডে সামাজিক কবরস্থান না থাকায় ঘরের মেঝেতে মরদেহ দাফনের খবর তাঁরা পেয়েছেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কথা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা এবং পাশের ওয়ার্ডের সামাজিক কবরস্থানে মরদেহ স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনও ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সমাজে একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর সামাজিক কবরস্থানে তার জন্য একটু ঠাঁই হবে না—এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি জানার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বৃদ্ধের বাড়ির পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে তার মরদেহ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক আরও জানান, ঘটনাটি তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যকেও অবহিত করেছেন তিনি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD