বাবার মৃত্যুর ১৫ মিনিট পর পৃথিবীতে এলো নবজাতক

যশোরের শার্শা উপজেলায় একই পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে জন্ম ও মৃত্যুর নির্মম বাস্তবতা। একদিকে নতুন অতিথির আগমনে আনন্দের মুহূর্ত, অন্যদিকে পরিবারের তরুণ সদস্যের মৃত্যুতে গভীর শোক। বাবার মৃত্যুর মাত্র ১৫ মিনিট পর পৃথিবীতে আসে তার পুত্রসন্তান। আনন্দ আর বিষাদের এমন ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশি ইউনিয়নের কন্যাদাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত হাবিবুর রহমানের বয়স ২৫ বছর। তিনি ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে এবং বন্দরের শ্রমিক ছিলেন। তার স্ত্রী মিম খাতুনের বয়স ১৭ বছর। তিনি পাশের সেতাই গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর তীব্র জ্বর ও শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে হাবিবুরকে প্রথমে বাগআঁচড়ার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয় তাকে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর মগবাজারের রাজমনু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান হাবিবুর।
এদিকে স্বামী যখন ঢাকায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, তখন প্রসববেদনা নিয়ে শার্শার বাগআঁচড়া নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি হন স্ত্রী মিম। সেখানেই তিনি জন্ম দেন এক পুত্রসন্তানের। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস- সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগেই ঢাকায় মারা যান তার স্বামী। সদ্য প্রসূতি স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্বামীর মৃত্যুর বিষয়টি জানাননি পরিবারের সদস্যরা।
বিজ্ঞাপন
নিয়তির নির্মম পরিহাস- যে সন্তানকে কোলে নিয়ে আনন্দে ভাসার কথা ছিল হাবিবুরের, সেই সন্তান পৃথিবীতে এলো বাবার চিরবিদায়ের ঠিক পরমুহূর্তে। একদিকে নবজাতকের কান্না, অন্যদিকে স্বজনদের আহাজারি- এক পরিবারের জীবনে নেমে আসে অবর্ণনীয় শোক।
যে ঘরে নতুন অতিথির আগমন উপলক্ষে আনন্দের প্রস্তুতি চলার কথা, সেই ঘরেই ফিরে আসে বাবার নিথর দেহ।
পরে হাবিবুরের জানাজায় ইমামতি করেন তার বাবা। জানাজায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
স্বামীকে হারিয়ে এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি মিম খাতুন। একদিকে স্বামী হারানোর শোক, অন্যদিকে সদ্যোজাত সন্তানকে বড় করে তোলার দায়িত্ব—সবকিছু সামলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে তাকে। পরিবারের এই শোকাবহ ঘটনায় এলাকায়ও নেমে এসেছে গভীর বিষাদ।








