গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। মাত্র চার থেকে পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে হাসপাতালটির কার্যক্রম। প্রতিদিন একজন চিকিৎসককে দুই শতাধিক রোগী দেখতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি সীমিত জনবল নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে কর্মরত চিকিৎসকদের।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা তাসলিমা ও ফাতেমার মতো রোগীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাঁদের মতে, চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো হলে অপেক্ষার সময় কমবে এবং দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া সহজ হবে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় রোগীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি সেবাদানকারীদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন নানা ধরনের অসুস্থতা নিয়ে মানুষ এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি এ প্রতিষ্ঠান চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা। কিন্তু চিকিৎসকস্বল্পতার কারণে সময়মতো সেবা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন অনেক রোগী। পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ ও পদায়ন করা গেলে একদিকে রোগীদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপও হ্রাস পাবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট চললেও এর স্থায়ী সমাধান দৃশ্যমান নয়। তাঁদের মতে, হাসপাতালের অনুমোদিত চিকিৎসক পদের সংখ্যা, বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকের হিসাব এবং শূন্য পদের তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাফিজুর রহমান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ সময় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সংবাদ করে কী হবে? অনেক সংবাদ হয়েছে, কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি। সংবাদ করে কোনো লাভ হয়নি, আর হবেও না।”
তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়া নিয়ে হতাশার চিত্র ফুটে ওঠে। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রশাসনের পাশাপাশি চিকিৎসক নিয়োগ ও পদায়নের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগও জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
গোসাইরহাটের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং কর্মরত চিকিৎসকদের অতিরিক্ত চাপও কমানো সম্ভব হবে।








