তেঁতুলিয়ায় শীতের আমেজ, সন্ধ্যার পর বাড়ছে ঠান্ডা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ধীরে ধীরে বাড়ছে শীতের আমেজ। কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেলায় রোদের কারণে কিছুটা উষ্ণতা অনুভূত হলেও সন্ধ্যা নামার পর বাড়ছে ঠান্ডার তীব্রতা। ভোরে হালকা কুয়াশা আর হিমেল বাতাস জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বুধবার সকালে তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হালকা কুয়াশা ভেদ করে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে সূর্যের আলো। ভোর থেকেই জীবিকার তাগিদে কাজে বেরিয়ে পড়ছেন দিনমজুর, চা ও পাথরশ্রমিক, ভ্যানচালকসহ কৃষকেরা। তবে সকালে হিমেল বাতাসের কারণে কাজে বের হওয়া মানুষের মধ্যে ঠান্ডার অনুভূতি বাড়ছে।
ভ্যানচালক আকাশ বলেন, সকালে বের হলে এখন বেশ ঠান্ডা লাগে। বিশেষ করে ভোরে ভ্যান চালানোর সময় হিমেল বাতাস গায়ে লাগে। তবে দিনের বেলায় রোদ উঠলে আবার গরম অনুভূত হয়।
বিজ্ঞাপন
চা শ্রমিক হৃদয় বলেন, ভোরে চা বাগানে কাজ করতে গেলে ঠান্ডা বেশি লাগে। আগে পাতলা কাপড় পরেই বের হওয়া যেত, কিন্তু এখন সকালে চাদর বা গরম কাপড় সঙ্গে নিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর উত্তর দিক থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। রাত গভীর হলে এবং ভোরের দিকে অনেককেই কাঁথা বা চাদর গায়ে জড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে শীতের আমেজ কিছুটা আগেই অনুভূত হয়। অক্টোবরের শেষভাগ থেকেই এখানে শীতের উপস্থিতি স্পষ্ট হতে শুরু করে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
শীতের আগমনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় বাজারেও। বিভিন্ন স্থানে বসছে মৌসুমি পিঠার দোকান। সন্ধ্যার পর ভাপা, চিতই ও পাকান পিঠার আয়োজন ঘিরে জমে উঠছে বাজারের পরিবেশ।
পিঠা বিক্রেতা আল-আমিন বলেন, ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিঠার চাহিদাও বাড়ে। কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যার পর মানুষ ভাপা ও চিতই পিঠা খেতে আসছেন। শীত আরও বাড়লে বিক্রিও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, দিনে তুলনামূলক গরম ও রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন শীতজনিত অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এসব সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে অনেকে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে হিমেল বাতাস ও হালকা কুয়াশার প্রভাবে তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে শীতের অনুভূতি।








