কবিরহাট পৌরসভায় সেবা স্থবিরতা, ভোগান্তিতে বাসিন্দারা

নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভায় নাগরিক সেবা কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। পৌর প্রশাসক হিসেবে নেলী রুদ্র দায়িত্ব নেওয়ার পরও সেবার মানে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর পৌরসভার কার্যক্রমে গতি আসবে এবং নাগরিক সেবা সহজ হবে। তবে তাঁদের অভিযোগ, বাস্তবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও বিভিন্ন কাজে বিলম্বের কারণে সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স এবং বিভিন্ন উন্নয়নসংশ্লিষ্ট কাজে প্রতিদিন পৌর কার্যালয়ে আসেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সেবার অনেকগুলো নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে। কিছু ফাইল দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, কবিরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেলী রুদ্র গত ১২ অক্টোবর পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন কার্যালয়ে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর থেকে তিনি আর পৌরসভায় আসেননি বলে ওই কর্মচারীর দাবি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ওই কর্মচারী ও অফিস সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসকের ইউজার আইডি (User ID) খোলা না হওয়ায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের ভাষ্য, নিয়মিত সেবা পেতে বারবার পৌর কার্যালয়ে গিয়েও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় সময় ও অর্থ—দুটিই নষ্ট হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বলেন, “পৌরসভায় প্রশাসক মহোদয় দায়িত্ব পাওয়ার পরও যদি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ না কমে এবং দিনের পর দিন সেবার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, তবে এই পদের ও প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য কী?”
তাঁদের দাবি, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত পৌর প্রতিষ্ঠানে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও কার্যকর তদারকি জরুরি।
পৌরসভার সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা, জমে থাকা ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বৃহত্তর নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে কবিরহাট পৌরসভার সচিব আবুল আনসারের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেদিনও পৌর প্রশাসকের কার্যালয় বন্ধ ছিল। প্রশাসক নেলী রুদ্রের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পৌরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে নাগরিক সেবা স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।








