Logo

লকেটে মিলেছিল পরিচয়, ১১ দিন পর দাদার পাশে মুক্তার শেষ ঠিকানা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পিরোজপুর
২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:০৩
লকেটে মিলেছিল পরিচয়, ১১ দিন পর দাদার পাশে মুক্তার শেষ ঠিকানা
ছবি: সংগৃহীত

গলার লকেটে মিলেছিল পরিচয়। এরপর ১১ দিনের অপেক্ষা শেষে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হলো কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তাকে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের খান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে সেখানে মুক্তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিরা অংশ নেন। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে গিয়ে শোকাহত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় থাকা লকেট দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করেন স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত ১৭ অক্টোবর ইনানীর টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন মুক্তা। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ভ্রমণই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে ওঠে।

অগ্নিকাণ্ডের পর অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হলেও মুক্তার সন্ধান মিলছিল না। ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহের মধ্যেও তার দেহাবশেষ ছিল না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল স্বজনদের। প্রিয় মানুষটির খোঁজে অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্তই ছিল তাদের জন্য অসহনীয়।

বিজ্ঞাপন

অবশেষে নতুন করে তল্লাশি চালিয়ে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় মুক্তার দেহাবশেষ। গলার লকেটের সূত্র ধরে নিশ্চিত হয় তার পরিচয়। এ ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ জনে।

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সালের অভিযোগ, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে হয়তো আরও আগেই তার স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া যেত। উদ্ধারকাজে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

দীর্ঘ ১১ দিনের অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার অবসান ঘটলেও মুক্তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। শেষ পর্যন্ত দাদার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD