পত্নীতলায় সাত বিঘা জমির আমন ধান নষ্টের অভিযোগ

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাত বিঘা জমির আমন ধানে আগাছানাশক প্রয়োগ করে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির চাচা ও তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
বিজ্ঞাপন
গত ২৩ অক্টোবর রাতে উপজেলার পাটিচড়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিকেরা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মল্লিকপুর মাঠের সাত বিঘা জমিতে বেলাল ইসলাম ও আবু আহসান হাবীব আমন ধানের চাষ করেছিলেন। ধানগাছে ফুল আসতে শুরু করার সময় রাতের আঁধারে জমিতে আগাছানাশক প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। পরদিন সকালে মাঠে গিয়ে তাঁরা ধানগাছ বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যেতে দেখেন।
ভুক্তভোগী আহসান হাবীবের অভিযোগ, তিনি তাঁর চাচা আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে জমিটি কিনেছিলেন। জমি কেনার পর কিছুদিন চাচা বর্গাচাষি হিসেবে সেখানে চাষাবাদ করেন। পরে তাঁরা নিজেরা জমি চাষ শুরু করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
বিজ্ঞাপন
আহসান হাবীব বলেন, এর আগেও তারা বেশ কয়েকবার আমাদের ক্ষতি করেছে। গত ইরি-বোরো মৌসুমে পাকা ধান লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কাদা-পানির সাথে মিশিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। এবারও অনেক কষ্টে ধান চাষাবাদ করেছিলাম।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান পলাশ, চাচা আব্দুর রাজ্জাক ও অপর চাচাতো ভাই ইয়াছির আরাফাত শ্যামল কয়েকজন অজ্ঞাত সহযোগীকে নিয়ে আগাছানাশক প্রয়োগ করে ধান নষ্ট করেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
অপর ভুক্তভোগী বেলাল ইসলাম অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের একজন মেহেদী হাসান পলাশ পাটিচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। দলীয় পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি তাঁর বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেন বেলাল। তাঁর ভাষ্য, এর আগেও একই জমিতে এভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিনুর আলম বলেন, জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। এর জেরেই রাতের আঁধারে কেউ ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পত্নীতলা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা শরিফুল রহমান বলেন, আমি সরেজমিনে তদন্ত করেছি। প্রায় ৭ বিঘা জমিতে আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে কৃষক মো. বেলাল হোসেন ও আবু আহসান হাবীবের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান পলাশের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








