Logo

সালথায় বাঁশের সাঁকোয় কমল কৃষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
সালথা, ফরিদপুর
৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৪২
সালথায় বাঁশের সাঁকোয় কমল কৃষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের সালথায় দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যায় ভোগা দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ব্যক্তিগত অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদ্য ঘোষিত সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেন। তাঁর এ উদ্যোগে কৃষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ও তুগোলদিয়া গ্রামের সংযোগস্থলে নির্মিত সাঁকোটি সরেজমিনে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে খাল পারাপারে ভোগান্তিতে থাকা মানুষ এখন সাঁকোটি ব্যবহার করে সহজে চলাচল করতে পারছেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে এটি সুবিধা তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম জানান, এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার অভাব রয়েছে। বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমেও সরু হালট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল খালের পানির মধ্য দিয়ে পার করতে গিয়ে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি ব্যয় হয়।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি জানতে পেরে যুবদল নেতা এনায়েত হোসেন নিজের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাস্তা ও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা উপকৃত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কৃষক পলাশ মোল্লা বলেন, আগে কাদা ও পানির মধ্য দিয়ে মাথায় করে উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া করতে হতো। খাল পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হতো। সাঁকো নির্মাণের পর সেই কষ্ট অনেকটাই কমেছে। কৃষকদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এর সুবিধা পাচ্ছে। আগে বিকল্প পথে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হতো। এখন সেই পথের ভোগান্তি কমেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। বর্ষায় খালের পানি ও কাদার কারণে চলাচল প্রায় দুরূহ হয়ে উঠত। উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো—সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়তে হতো তাঁদের। নতুন সাঁকোটি আপাতত এসব সমস্যার কিছুটা সমাধান দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিজ উদ্যোগের বিষয়ে মো. এনায়েত হোসেন বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে শুধু পদ-পদবি কিংবা নেতৃত্বের বিষয় নয়, রাজনীতি হচ্ছে মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি মাধ্যম। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছি। আমার এই ছোট উদ্যোগে যদি কৃষকের কষ্ট কিছুটা কমে, শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হন, তাহলেই আমার প্রচেষ্টা সার্থক হবে।”

তিনি আরও বলেন, তবে বাঁশের সাঁকো স্থায়ী সমাধান নয়। এখানে একটি টেকসই রাস্তা ও সেতু নির্মাণ করা জরুরি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব। আমি সব সময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সেখানে স্থায়ী সেতু ও উন্নত সড়ক নির্মাণ করা হলে দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD