ত্রিশালে ৩৩ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমিটি, মেয়াদ তিন মাস

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নবগঠিত কমিটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শাহ মো. শাহাবুল আলমকে আহ্বায়ক এবং কায়েকোবাদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ময়মনসিংহ জেলা কমান্ড কাউন্সিল এ কমিটির অনুমোদন দেয়। কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান মিয়া ও মহাসচিব মো. শফিকুল ইসলামের অনুমতিক্রমে জেলা কমান্ড কাউন্সিল অনুমোদন প্রদান করে।
অনুমোদনপত্র অনুযায়ী, আহ্বায়ক শাহ মো. শাহাবুল আলম বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ডা. মজের উদ্দিনের সন্তান। তিনি ত্রিশাল উপজেলার চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে সদস্য সচিব কায়েকোবাদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কবিরুল ইসলামের সন্তান। তাঁর বাড়ি উপজেলার গোপালপুর এলাকায়।
বিজ্ঞাপন
১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাঁদের সেই গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকার ধারণ করে তাঁদের সন্তানদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অনুমোদিত কমিটির মেয়াদ তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উপজেলার সব ইউনিয়নে সংগঠনের কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা ও বিভাগীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে সংগঠনের গঠনতন্ত্র এবং প্রচলিত আইন অনুসরণ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া অনুমোদনপত্র জারির ১৫ দিনের মধ্যে পরিচিতি সভা আয়োজন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠনতন্ত্রবিরোধী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কমিটি বাতিল বলে গণ্য হবে বলে অনুমোদনপত্রে উল্লেখ রয়েছে। প্রয়োজনে কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানো, পরিবর্তন ও বাতিলের ক্ষমতাও জেলা কমান্ড কাউন্সিল সংরক্ষণ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে ত্রিশালে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা, তাঁদের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনা পৌঁছে দিতে নবগঠিত কমিটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।








