Logo

আতঙ্কে এলাকা ছাড়লেন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন হেনা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
পিরোজপুর
৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:৩৫
আতঙ্কে এলাকা ছাড়লেন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন হেনা
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে এলাকা ছেড়েছেন তাঁর বোন হেনা বেগম। স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দাফনে বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলার পর থেকেই তিনি আতঙ্কে ছিলেন বলে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার হুমকি-ধমকির মুখে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যান তিনি। এর আগে তাঁর নিকটাত্মীয়রাও এলাকা ছাড়েন।

পিরোজপুর সদর উপজেলার সংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়ি। বাড়ির পাশেই বসবাস করতেন তাঁর বোন হেনা বেগম। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন মানিক পশারী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি পিরোজপুর ছেড়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সেখানে দুই মাস অসুস্থ থাকার পর গত ২৪ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর পর মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া হলে গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় কয়েকজন তাঁর দাফনে বাধা দেন বলে পরিবারের অভিযোগ। এ সময় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান ও সমবেত হতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরে গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় পারিবারিক কবরস্থানে মানিক পশারীকে দাফন করেন স্বজনরা। পরিবারের অভিযোগ, ভীতি ও আতঙ্কের কারণে এলাকার কোনো পুরুষ দাফনকাজে এগিয়ে আসেননি। তাঁর মেয়ে ও বোনসহ স্বজনদের কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

মোবাইল ফোনে হেনা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, “রাতে ঝুপড়িঘরে থাকতে ভয় পাই। বিভিন্ন মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের দাফনে যারা বাধা দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার ওপর নানা ধরনের হুমকি আসছে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইব। তাই এলাকা ছেড়ে দূরে আসছি। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।”

মানিক পশারীর ভাই পান্না পশারী খুলনার বটিয়াঘাটায় বসবাস করেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে পিরোজপুরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাঁকে হুমকি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পান্নার ভাষ্য, জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে গিয়েও হুমকির কারণে তাঁদের পিরোজপুর ছাড়তে হয়েছে।

চিতলিয়া গ্রামটি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এ বিষয়ে জিয়ানগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলী হোসেন বলেন, তাঁদের দলের পক্ষ থেকে মানিক পশারীর কোনো স্বজনকে হুমকি বা হয়রানি করা হয়নি। তিনি এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনের পর এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তারপরও পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং গ্রাম পুলিশকে খোঁজখবর রাখতে বলা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD