Logo

'দোয়া করো মা’, মায়ের সঙ্গে শেষ কথায় যা বলেছিলেন সেনাসদস্য তিতাস

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুর
৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১৫:৪৪
'দোয়া করো মা’, মায়ের সঙ্গে শেষ কথায় যা বলেছিলেন সেনাসদস্য তিতাস
ছবি: সংগৃহীত

‘ইয়াবার ডিউটিতে আছি, দোয়া করো মা।’ মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে মায়ের সঙ্গে শেষ ফোনালাপে এ কথাই বলেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখ। কে জানত, মায়ের কাছে দোয়া চাওয়ার পর আর কখনো ঘরে ফেরা হবে না তাঁর! পরদিনই কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান এই সেনাসদস্য। ছেলের মৃত্যুতে শোকে বাকরুদ্ধ মা, অন্যদিকে স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল তিতাসের। সে সময় তিনি কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। সন্তান হারানোর বেদনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মা রেখা বেগম। ছেলের স্মৃতি মনে করে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি।

তিতাসের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের অবস্থাও শোচনীয়। মাত্র চার বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীকে ঘিরে সাজানো নানা স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে গেছে। যে মানুষটিকে নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ছিল, তাঁর অনুপস্থিতিতে এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে সুমাইয়ার।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মা রেখা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মৃত্যুর আগের দিন ফোন করে তিতাস তাঁকে বলেছিলেন, তাঁরা সন্ত্রাসী ও মাদককারীদের আস্তানায় অভিযান চালাচ্ছেন। মাকে তিনি বলেছিলেন, ‘ইয়াবার ডিউটিতে আছি। দোয়া করো মা।’

এদিকে তিতাসের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে অপেক্ষা করছেন তারা। যে বাড়িতে একসময় হাসি-আনন্দ ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর স্বজন হারানোর বেদনা।

বিজ্ঞাপন

সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে হেলিকপ্টারে তিতাসের মরদেহ নগরকান্দায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শেষবারের মতো ছেলেকে দেখার অপেক্ষায় মা, স্বামীকে দেখার অপেক্ষায় স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। মাত্র একমাস আগে তার পদায়ন হয় কক্সবাজারে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা হয় তার। তখন মাকে জানান, ইয়াবার ডিউটিতে আছেন এবং সন্ত্রাসী ও মাদককারীদের আস্তানায় অভিযান চালাচ্ছেন।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই আসে তিতাসের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলাকালে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন তিনি। তার বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে। প্রথমে তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে মারা যান তিতাস।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা রাজ্জাক শেখ বলেন, ‘তার এ মৃত্যু শহীদি মর্যাদার। দেশের জন্য তার এই আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তিনি সবার কাছে তিতাসের জন্য দোয়া কামনা করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিতাসের মামা হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার জানান, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও তাঁদের অবহিত করা হয়েছে। হেলিকপ্টারে নগরকান্দা হেলিপ্যাডে মরদেহ আনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

এদিকে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন তিতাসের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর বিষয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD