প্রতিকূলতা পেরিয়ে গলাচিপায় আমনের বাম্পার ফলনের আশা

পটুয়াখালীর গলাচিপায় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রোপা আমনের ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। জমিতে ধানের চারা ও বীজের অবস্থা ভালো থাকায় তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে ফসল ঘরে তোলার আগে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
গলাচিপা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় উপজেলা হওয়ায় প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় কৃষকদের। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগে অনেক সময় মাঠের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরও কৃষকরা নানা ঝুঁকি নিয়ে কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, রোপা আমনের ক্ষেতগুলোতে ধানের চারা বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। কৃষকদের আশা, ফসল কাটার আগে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমনের ফলন ভালো হবে।
তবে ফলন নিয়ে আশাবাদী হলেও ধানের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে কৃষকদের। তাদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ফসল বিক্রির সময় প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণের বাড়তি দাম তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গলাচিপার বিভিন্ন হাটের আড়তদাররা অনেক সময় ৪৮ থেকে ৫০ কেজি ধানকে এক মণ হিসেবে হিসাব করেন। এতে নির্ধারিত মণের তুলনায় কৃষকদের বেশি ধান দিতে হয় এবং প্রকৃত লাভ কমে যায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গলাচিপায় রোপা আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৬ হাজার ৪ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উফশী জাতের রোপা আমন চাষ হয়েছে ২৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের রোপা আমন চাষ হয়েছে ৭ হাজার ২৫৪ হেক্টর জমিতে।
বিজ্ঞাপন
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব খাতের আওতায় ৫০ জন প্রান্তিক কৃষককে প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনার আওতায় উপজেলার ১০ হাজার প্রান্তিক কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ কৃষক রোপা আমন এবং ৫ হাজার ৫০০ কৃষক অন্যান্য খাতে প্রণোদনা পেয়েছেন।
প্রণোদনার আওতায় উফশী রোপা আমনের বীজ ৫ কেজি, এমওপি সার ১০ কেজি ও ডিএপি সার ১০ কেজি করে দেওয়া হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার বলেন, চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষ করতে কৃষকদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। চাষাবাদের সময় অতিবৃষ্টিতে মাঠঘাট পানিতে তলিয়ে থাকায় অনেকে সময়মতো জমি প্রস্তুত ও চাষ করতে পারেননি।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘তবে তারা শতপ্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। আমাদের অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আছেন, তারা সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।’
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ফসল কাটার আগে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা ভালোভাবে ধান ঘরে তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে উৎপাদিত ফসল ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারলে তারা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।








