ছাত্রদলের ১৫ নেতাকে অব্যাহতি, ৩ জনকে শোকজ

সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৫ জন নেতাকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও তিনজন সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
অব্যাহতি পাওয়া ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের ২ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৩ জন সদস্য।
অব্যাহতি পাওয়া যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন—ইয়ামিন রহমান, হান্নান মিয়া।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া অব্যাহতি পাওয়া সদস্যরা হলেন—বুলবুল আহমেদ, হাসিব চৌধুরী, রাতিকুল ইসলাম, আরিফুল বাবু, শাওন খন্দকার, সাজ্জিদ হোসেন, রাশিকুল ইসলাম সাহিল, মঞ্জুরুল ইসলাম সুজন, সজীব মিয়া, মোহাম্মদ রিয়াদ আহাম্মেদ, মাসুদ রানা অনিক, তনয় শরীফ ও আশরাফুল ইসলাম অশ্রু।
৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ: অন্য একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য কাজী সালমান রহমান, রানা মো. সোহেল ও মিরাজ হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দায়িত্বশীল পদে থেকেও সাংগঠনিক কাজে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের সংগঠনের নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আছে। যারা নিয়মিতভাবে এসব কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং দায়িত্ব পালন করে, তারাই প্রকৃত অর্থে সংগঠনের কর্মী।”
তিনি বলেন, বর্তমান কমিটিতে থাকা অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত ছিলেন এবং একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। ক্যাম্পাসভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের কোনো উপস্থিতি ছিল না।
বিজ্ঞাপন
পিয়াল হাসান আরও বলেন, “অন্যদিকে আমাদের অনেক কর্মী নিয়মিত ক্যাম্পাসে কাজ করছে এবং বিভিন্ন পদের জন্য আবেদনও করেছে। সংগঠনের স্বার্থে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। যারা একেবারেই নিষ্ক্রিয় এবং সংগঠনের সঙ্গে কার্যত কোনো সম্পর্ক রাখছে না, তাদের কারণে সংগঠনের কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হতে পারে।”
তিনি জানান, অব্যাহতি দেওয়া নেতাদের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা যদি সাংগঠনিক নিয়ম মেনে আবার সক্রিয় হন এবং ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেন, তাহলে তাদের পুনরায় সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।








