ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি, তল্লাশি করে প্রবেশ

বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণবোমা’ হামলার হুমকি দিয়ে অজ্ঞাত একটি ই-মেইল পাঠানোর পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা তৎপরতা চালাচ্ছেন। তল্লাশির পর শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে ‘টপিকেল চাইনিজ ম্যান’ নামের একটি আইডি থেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেইলটি পাঠানো হয়। এতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে একাধিক বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়।
ই-মেইল বার্তায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা উল্লেখ করে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। বার্তায় হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে না বলেও হুমকিদাতা দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
হুমকির ই-মেইল পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়। পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এক লিখিত বক্তব্যে জানায়, অজ্ঞাত একটি ই-মেইল পাওয়ার বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, হুমকির ঘটনায় আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বলেন, এ ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকিটিকে সম্ভাব্য কোনো হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। হুমকির ই-মেইলের উৎস ও ঘটনার বিষয়ে ডিবির সাইবার টিম তদন্ত করছে।
এদিকে, নির্ধারিত সময়কে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু চোখে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।








