ঢাকার সড়ক ফাঁকা, বেড়েছে রিকশার দাপট

সাধারণত যানজটের নগরী হিসেবে পরিচিত রাজধানী ঢাকা বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ছিল একেবারেই ভিন্ন চেহারায়। সড়কে নেই চিরচেনা যানবাহনের চাপ, নেই দীর্ঘ যানজট। বরং মূল সড়কে বেশি চোখে পড়ছে প্যাডেলচালিত রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
বিজ্ঞাপন
আগারগাঁও শিশুমেলার মোড়ে ফার্মগেটগামী যাত্রী তাবারুল ইসলাম বলেন, “আজ চিরচেনা ঢাকার উল্টো চিত্র। সড়কে গণপরিবহন নেই বললেই চলে। সিএনজি চালকরা বাড়তি ভাড়া চাইছে। তাই আমি রিকশায় যাচ্ছি।”
সরেজমিন দেখা যায়, সড়কে গণপরিবহন কম থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীরা। তবে মেট্রোরেলে ছিল স্বাভাবিক যাত্রী চাপ। এদিকে সড়কে ফাঁকাফাঁকি পরিবেশের সুযোগে রিকশাচালকরা দূরের যাত্রী তুলছেন এবং তুলনামূলক ভালো ভাড়া পাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
রিকশাচালক মিন্টু হোসেন বলেন, “আজ অনেক ভাড়া পাচ্ছি। যাত্রী দূরের হলে সিগন্যাল গলি দিয়ে কৌশলে পার হচ্ছি। সমস্যা হচ্ছে না।”
ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বুধবার (১ অক্টোবর) থেকে শনিবার (৪ অক্টোবর) পর্যন্ত সরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ছুটি। তাই সড়কে চাপ কমে গেছে।
তেজগাঁও ট্রাফিক জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) তানিয়া সুলতানা বলেন, “আজ সড়কে প্রভাব পড়েছে ছুটির কারণে। চিরচেনা যানবাহন নেই, সিগন্যালগুলোতেও চাপ নেই। তবে রিকশা আটকানোর চেষ্টা চলছে, অনেক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সড়ক ফাঁকা থাকায় গলি থেকে হুট করেই ঢুকে পড়ছে রিকশা।”
বিজ্ঞাপন
গুলিস্তান থেকে মিরপুরগামী যাত্রী হাসান সৌখিন বলেন, “আজ বাসে যাত্রী নেই বললেই চলে। সাধারণ দিনে সোয়া ঘণ্টা লাগে, আজ মিরপুর পৌঁছেছি মাত্র ২০ মিনিটে।”
উড়োজাহাজ ক্রসিং সিগন্যালে দায়িত্বে থাকা এক ট্রাফিক সদস্য বলেন, “আজ সড়কে রিকশাই বেশি। আটকানো দায় হয়ে গেছে।”
বিজ্ঞাপন
তবে বিকেলের পর দুর্গা বিসর্জন উপলক্ষে সড়কে মানুষের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিনোদনকেন্দ্র অভিমুখে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে, যেখানে বেশিরভাগই ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।








