মেট্রোরেল যাত্রীদের জন্য বড় সুখবর

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন স্বস্তি আনতে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে মেট্রোরেল। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের (২০২৭) এপ্রিলে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের বর্ধিত অংশে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা দ্রুত গণপরিবহন উন্নয়ন প্রকল্পের (লাইন-৬) প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওহাব।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরুর আগে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে খালি ট্রেনে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু করা হবে। প্রতিদিনের নির্ধারিত যাত্রীসেবা শেষ হওয়ার পর রাতের বেলায় উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো পথে এই পরীক্ষামূলক চলাচল পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি বিষয় যাচাই করে নিয়মিত সেবা চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের (২০২৬) জুন মাসের মধ্যে ১ দশমিক১৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, একটি স্টেশন ও রেল ট্র্যাক নির্মাণসহ পুরো সম্প্রসারণ কাজের প্রায় ৭৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। বর্তমানে কমলাপুর স্টেশনের স্থাপত্য এবং প্রবেশ-বাহির পথের নির্মাণকাজ চলছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই স্টেশনের সমস্ত পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার, স্টেশন কলাম, প্রিকাস্ট, কনকোর্স ছাদ, প্ল্যাটফর্ম স্ল্যাব, ট্র্যাক স্ল্যাব, প্যারাপেট ওয়াল এবং স্টিলের ছাদ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমলাপুর স্টেশনের জন্য স্বয়ংক্রিয় দরজা, সিগন্যালিং সিস্টেম এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি শিগগিরই স্থাপনের জন্য আনা হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ট্র্যাক স্থাপনের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। বর্তমানে স্টেশনের অভ্যন্তরীণ দেয়ালের টাইলস, স্থায়ী জানালার গ্লাস স্থাপন এবং রঙের কাজ চলছে। এ ছাড়া উত্তরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ২৯৮টি প্রিকাস্ট সেগমেন্টের মধ্যে ১০০টি প্রিকাস্ট সেগমেন্ট কাস্টিংয়ের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত লাইন-৬-এর মোট দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশে বাণিজ্যিকভাবে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হয়। নতুন অংশ চালু হলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে মেট্রোরেলের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। এতে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা আরও আধুনিক, দ্রুত ও যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমবে।








