Logo

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে পাখিদের ঠিকানা ‘আকাশ নীড়’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:০৫
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে পাখিদের ঠিকানা ‘আকাশ নীড়’
ছবি প্রতিনিধি।

ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরে পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় আর একটু সবুজের পরশ—এই ভাবনা থেকেই ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে ‘আকাশ নীড়’। সবুজ গাছপালা, ফুল-ফল, জলাধার, পাখির খাবার ও কৃত্রিম আশ্রয়ে সাজানো হয়েছে ছাদটি।

বিজ্ঞাপন

‘পাখির রাজ্যে স্বাগতম’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে এ ছাদ বাগান। শুধু সৌন্দর্য বাড়ানো নয়, নগরে কমে আসা পাখি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘আকাশ নীড়’ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।

এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরে সবুজের জন্য একটু জায়গা, নির্মল বাতাসের জন্য অবকাশ এবং পাখির কিচিরমিচির শোনার মতো পরিবেশ দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। তবে উদ্যোগ, ভালোবাসা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে কংক্রিটের শহরেও সবুজ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আকাশ নীড়’ শুধু একটি ছাদ বাগান নয়; এটি নগরজীবনে সবুজ, জীববৈচিত্র্য ও পাখির নিরাপদ আবাস ফিরিয়ে আনার একটি প্রয়াস।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এখানে পাখির খাবার, পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তারা নিরাপদে থাকতে ও বিচরণ করতে পারে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ‘আকাশ নীড়ে’ রয়েছে ৫৮ প্রজাতির মোট ৪১৮টি গাছ। এর মধ্যে পাখির খাদ্যের উৎস ও পরাগায়নের জন্য রয়েছে ৩০ প্রজাতির ২২৯টি ফুলের গাছ। এ ছাড়া ১৪ প্রজাতির ৪১টি ফলের গাছ এবং ১১ প্রজাতির ৪৪টি অর্নামেন্টাল গাছ রয়েছে।

পাখিদের জন্য রাখা হয়েছে পদ্ম ও শাপলায় সাজানো জলাধার এবং বার্ডস বাথ।

বিজ্ঞাপন

নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে বাঁশের কৃত্রিম ঝোপঝাড় ও পাখির ঘর। বড় ক্যানোপিযুক্ত গাছও রাখা হয়েছে তাদের স্বাভাবিক বিচরণের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য।

শুধু পাখি নয়, স্থানীয় খরগোশ, বানর ও কাঠবিড়ালীর জন্যও নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফরিদা খানম বলেন, ঢাকার প্রতিটি ভবনের ছাদ যদি একটু একটু করে সবুজ হয়ে ওঠে এবং মানুষ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী গাছ লাগান, তাহলে শহরটি আরো বাসযোগ্য ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। প্রকৃতি রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, নগরায়ণের কারণে সবুজ এলাকা ও জীববৈচিত্র্যের পরিসর ক্রমেই কমছে। এ অবস্থায় ছাদ বাগান শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়, নগরের পরিবেশ রক্ষায়ও এটি কার্যকর উদ্যোগ।

তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি ভবনের ছাদে সবুজায়ন করে এবং পাখির জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে সম্মিলিতভাবে নগরের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, ‘আকাশ নীড়’ মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক আরো কাছাকাছি আনার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতন করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

‘আকাশ নীড়’ শুধু পাখিদের জন্য নয়, নগরবাসীর জন্যও রাখা হয়েছে স্বস্তির জায়গা হিসেবে। ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য এখানে তৈরি করা হয়েছে বিশ্রামস্থল। রয়েছে ছাতা ও কাঠের চেয়ার। ফুলের সুবাস, সবুজ গাছপালা ও পাখির ডাক মিলিয়ে ছাদটি হয়ে উঠেছে ব্যস্ত শহরে একটু প্রশান্তির জায়গা।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ‘আকাশ নীড়’কে শুধু একটি ছাদ বাগান হিসেবে নয়, একটি ধারণা হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। ঢাকার আরো ভবনের ছাদে এমন সবুজায়ন ও পাখিবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে কংক্রিটের নগরেও বাড়তে পারে সবুজের পরিসর এবং জীববৈচিত্র্যের সুযোগ।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD