Logo

বিয়ের দুই সপ্তাহ আগে মৃত্যু, নিথর বৃষ্টিকে সিঁদুর পরালেন হবু বর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:৪৪
বিয়ের দুই সপ্তাহ আগে মৃত্যু, নিথর বৃষ্টিকে সিঁদুর পরালেন হবু বর
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের ২৫ বছর বয়সী বৃষ্টি ঘরামির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর। বিয়ের জন্য লাল শাড়ি, সিঁদুরসহ প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও শেষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু নতুন জীবনে পা রাখার আগেই ডেঙ্গুতে তার মৃত্যু হয়েছে। শেষ বিদায়ের আগে বৃষ্টির হবু বর তার নিথর দেহে সিঁদুর পরিয়ে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বৃষ্টির মৃত্যু হয়। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে একটি ট্রমা সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় নয় মাস ধরে সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিঁদুর পরানো বৃষ্টির নিথর দেহের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তার ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা যায়, মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন। পাশাপাশি রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করে একটি ফোন নম্বরও দিয়েছিলেন।

পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে বৃষ্টির বড়বোন কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে তিনি বলেন, আমার বোন। আমার বোন আর নাই। ১৬ অক্টোবর বিয়ের দিন ছিল। সব কেনাকাটা শেষ। ডেঙ্গু বোনটাকে কেড়ে নিল।

বিজ্ঞাপন

বৃষ্টির শেষ সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১০৮ ডিগ্রি জ্বর উঠে গিয়েছিল। পরে হিট স্ট্রোক হয়। ওই সময় যে ধরনের ম্যানেজমেন্ট দরকার ছিল, সেটি করা হয়নি। ১০-২০ মিনিট আগে শুরু করলে হয়তো বেঁচে যেত।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গোপালগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেছিলেন বৃষ্টি। তার হবু বরের বাড়ি পাশের টেকেরহাট এলাকায়। মৃত্যুর পর বৃষ্টিকে সিঁদুর পরিয়ে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তার বড়বোন বলেন, ‘বোনজামাই ওকে সিঁদুর পরিয়ে দিয়েছে। ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে আসার পথে ওর শ্বশুর-শাশুড়ি বিয়ের সব জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে আসেন। বৃষ্টির চলে যাওয়া আমাদের শত জীবনের শোক হয়ে থাকবে। বিয়ে নিয়ে কত আশা ছিল, কত যে গল্প করত ।

বিজ্ঞাপন

নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীদের প্রতিও বৃষ্টির ছিল গভীর মমতা। তার ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টেও সেই মানবিকতার কথা উঠে এসেছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনায় আহত এক কিশোরীর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থার ছবি শেয়ার করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন বৃষ্টি। সেখানে রোগীটির সঙ্গে তার আবেগঘন সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। লিখেছিলেন, ‘কতখানি বিশ্বাস, ভরসা আর ভালোবাসা। মেয়েটার বয়স বেশি না, আমার মিষ্টুর বয়সি। মারাত্মক দুর্ঘটনার থেকে কোনোমতে জান বেঁচে ফিরেছে, জাস্ট কোনোমতে। এত বড় দুর্ঘটনা থেকে সুস্থ হতে ওর কয়েক মাস আবার বছরও লেগে যেতে পারে।

বৃষ্টি আরও লিখেছিলেন, ‘কী সুন্দর করে আপু বলে ডাক দেয়, ওর জন্য ভীষণ মায়া লাগে। আজ ডিউটি শেষ করে আসার সময় বলতেছিল তুমি যেও না, তুমি অনেক ভালো, আমায় কতো ভালোবাসো, তুমি আমার সাথে আমার বাড়ি যাবে। অনেক জোরাজোরির পর, আর কালকে খুব সকালে যাওয়ার প্রমিস করে তবে আমায় আসতে দিয়েছে। এইটা সবাই বোঝে না শুধু নার্স আর রোগীর একান্ত মধ্যকার আলাপ-আলোচনা।’

বিজ্ঞাপন

বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নতুন জীবন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বৃষ্টি। কিন্তু আকস্মিক মৃত্যুতে থেমে গেছে সেই সব আয়োজন। শেষ বিদায়ের আগে হবু বরের হাতে সিঁদুর পরানোর সেই মুহূর্ত এখন পরিবারের কাছে হয়ে আছে অপূর্ণ বিয়ের এক বেদনাবিধুর স্মৃতি।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD