Logo

ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা : অভিযুক্ত ২৮, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ২২

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৩৯
ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা : অভিযুক্ত ২৮, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ২২
তোফাজ্জল হোসেন | ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক থাকায় ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জালাল মিয়া, ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মোত্তাকিন সাকিন শাহ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।

বিজ্ঞাপন

আসামিদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে আছেন। বাকি ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে তিনি কোনো নারাজি আবেদন দাখিল করেননি। ফলে আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন এবং পলাতক ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথি কক্ষে ৩২ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে নির্যাতন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তাকে মারধরের আগে ভাত খেতে দেওয়া হয় এবং ভাত খাওয়ার সময় তাকে নানা প্রশ্ন করা হচ্ছিল। পরে রাত প্রায় ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে তদন্ত সঠিকভাবে হয়নি বলে দাবি করে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নারাজি দেওয়া হয়। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন এবং দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।

পরে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলামের নেতৃত্বে পুনরায় তদন্ত শেষে গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাতজনকে যুক্ত করে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD