Logo

ট্রাইব্যুনালে ২১ মামলা চলমান, রায়ের অপেক্ষায় ২

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৮
ট্রাইব্যুনালে ২১ মামলা চলমান, রায়ের অপেক্ষায় ২
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২১টি মামলা বিচারাধীন, এর মধ্যে দুটি মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় আছে।

বিজ্ঞাপন

বহুল আলোচিত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আগামী ৯ এপ্রিল ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলন্ত অবস্থায় দুইজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিও রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর এখন পর্যন্ত তিনটি মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং একজন রাজসাক্ষী হিসেবে ক্ষমা পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, রায়ের অপেক্ষায় থাকা দুই মামলায় মোট ৩৫ জন আসামি রয়েছেন। অন্যদিকে প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ মিলিয়ে ২৪টি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১টি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ এ ১৬টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২ এ পাঁচটি মামলা বিচারাধীন।

চলমান এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৫৭ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৬১ জন, পলাতক ২৯৩ জন, একজন জামিনে রয়েছেন, একজন মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রাজনীতিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন।

এছাড়া বিবিধ মামলা রয়েছে ৩৪টি, যেখানে আসামির সংখ্যা ২০৭ জন। এদের মধ্যে ৯৬ জন গ্রেপ্তার এবং ১২৫ জন পলাতক।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম বলেন, শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন এটি রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। রামপুরার মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি সামনে আসায় রায় ঘোষণার তারিখ পেছানো হয়েছে, যা আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শুনানি শেষে নির্ধারিত হবে।

এদিকে বিভিন্ন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ একাধিক আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে, আবার কিছু মামলায় এখনো তদন্ত চলছে।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর আরও ৮ থেকে ১০টি মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে। তবে সাক্ষীদের হুমকি-ধমকি এবং নিরাপত্তা সংকটের বিষয়টি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD