তোফাজ্জল হত্যা : আদালত থেকে পালালেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থী আদালতে আত্মসমর্পণের আবেদন করতে এসে সেখান থেকেই পালিয়ে গেছেন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম রাশেদ কামাল অনিক।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৫ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে তার আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে আদালতে আবেদনের শুনানি শুরু হওয়ার আগেই তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন বলে আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর আগে সংঘটিত বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রাশেদ কামাল অনিক অন্যতম। তিনি আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নিলেও আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরুর আগেই আদালত এলাকা থেকে সরে পড়েন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ১০ মার্চ তোফাজ্জল হোসেন হত্যা মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার ২২ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
মামলার নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে তোফাজ্জলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করেন। পরে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে তাকে হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে প্রথমে তাকে মারধর করা হয় এবং পরে দক্ষিণ ভবনের একটি গেস্টরুমে জানালার সঙ্গে তার হাত বেঁধে স্টাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে মারধরের ফলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
বিজ্ঞাপন
রাত প্রায় ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞাপন
মামলাটি তদন্ত শেষে শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে তদন্তে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো হয়।
পরবর্তীতে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
পরে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম নতুন করে তদন্ত সম্পন্ন করে আরও সাতজনকে যুক্ত করে মোট ২৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বর্তমানে মামলার কয়েকজন আসামি জামিনে ও কারাগারে থাকলেও অধিকাংশই এখনো পলাতক রয়েছে।








