শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত: চিফ প্রসিকিউটর

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক—এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তার দাবি, হেফাজতে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ওই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা ছিল একটি পদ্ধতিগত অপরাধ এবং ব্যাপক ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বিদ্যমান রয়েছে। তার ভাষ্য, ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংগঠনটিকে সম্পূর্ণভাবে দমন করার বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে একটি খসড়া প্রতিবেদন তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে, যাতে নির্ভুল তদন্তের ভিত্তিতে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা যায় এবং প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, এ উদ্দেশ্যে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আসামিদের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি এখনও খসড়া প্রতিবেদন হওয়ায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক পুলিশপ্রধান, বিজিবি প্রধানসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ এসেছে। চূড়ান্ত যাচাইয়ের পরই বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, খসড়া প্রতিবেদন হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের তালিকায় সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে। হেফাজতে ইসলামের নেতারা এ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হওয়ায় তদন্তে তাদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। তবে কারা চূড়ান্তভাবে আসামি হবেন, তা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের পরই জানা যাবে।
নিহতদের সংখ্যা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, তবে বাকি তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
বিজ্ঞাপন
এর আগে রোববার সকালে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে আসে। প্রতিনিধি দলে মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








