আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম

রাজধানীর গুলশান থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার জামিন শুনানির জন্য আগামীকাল নির্ধারণ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে পুলিশ তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে উপস্থাপন করে। প্রথমে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।
বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে তোলা হয়। এ সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আনা হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর পর তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। তার আইনজীবীরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন।
বিজ্ঞাপন
শুনানিতে আসামিপক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তা মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে জামিন শুনানির জন্য আগামীকাল ধার্য করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন।
এর আগে রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী তাকে আটক করে। পরে তাকে শাহ আলী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে গুলশান থানায় নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুর এলাকার সুবাস্তু মার্কেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হাজারো মানুষ মিছিল করছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়।
এ ঘটনায় মো. ইমরান (৩০) নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তিনি কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে মিছিলের সঙ্গে সংহতি জানাতে গিয়ে গুলির শিকার হন। পরে তাকে গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।








