Logo

‘উপরের নির্দেশ রয়েছে, গুলির কথা লেখা যাবে না’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:০৫
‘উপরের নির্দেশ রয়েছে, গুলির কথা লেখা যাবে না’
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ইমাম হাসান তাইমের সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশের গুলির তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন তার বাবা, পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তিনি। বর্তমানে ময়নাল হোসেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে কল্যাণ ও ফোর্স বিভাগে এসআই হিসেবে কর্মরত।

বিজ্ঞাপন

জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করেন, যেখানে তাইমের মরদেহ সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এ সময় শাহবাগ থানার এসআই শাহাদাতের সঙ্গে তার দেখা হয়। তিনি শাহাদাতকে জানান, তার ছেলেকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে এবং দ্রুত সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন। তবে কোনো সহানুভূতি না দেখিয়ে ওই কর্মকর্তা অন্য একজনের সঙ্গে ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ময়নাল হোসেন আরও বলেন, হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অকারণে দেরি করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে সুরতহাল শুরু হলে সেখানে গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্পষ্ট চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তা উল্লেখ না করে ‘ছিদ্র’ ও ‘কালো দাগ’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে এসআই শাহাদাত তাকে জানান, ‘উপরের নির্দেশ রয়েছে, গুলির কথা লেখা যাবে না।’ পাশাপাশি বলা হয়, ছাত্র-জনতার আঘাত ও গুলিতে তার ছেলে মারা গেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, পরে তাকে সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। ছেলের মৃত্যু, চাকরি হারানোর আশঙ্কা এবং মরদেহের অবস্থা বিবেচনায় বাধ্য হয়ে তিনি স্বাক্ষর করেন। সুরতহাল শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ময়নাতদন্ত না হওয়ায় বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বিকেল ৪টার দিকে ময়নাতদন্ত শুরু হয় এবং সাড়ে ৪টার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ মামলায় ১১ আসামির মধ্যে বর্তমানে দুজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান এবং সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। বাকিরা পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন এবং এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।

বিজ্ঞাপন

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD