নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্ধারিত সময় অতিক্রমের কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও আদালত তা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এ নির্দেশনার ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আদালতে নুসরাত তাবাসসুমের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান এবং অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। তারা আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং প্রার্থীর অংশগ্রহণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এনসিপির এই নেত্রী। রিটে তিনি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন এবং তার মনোনয়নপত্র গ্রহণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চান।
গত ২২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে জমা দেওয়ার অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারিত ছিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়নপত্র জমা দেন বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে। নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর জমা পড়ায় কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করে বাতিল ঘোষণা করে।
বিজ্ঞাপন
এ সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সামান্য সময় বিলম্বের কারণে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। এরপরই আদালতের শরণাপন্ন হন নুসরাত তাবাসসুম।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টে এমপি আমির হামজার আগাম জামিন
এর আগে একই দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতাও স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে এনসিপির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে এখন নির্বাচন কমিশনকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। হাইকোর্টের এই নির্দেশনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।








