Logo

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস মামলায় সাত আসামিই কারাগারে, জামিন নামঞ্জুর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:৫৯
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস মামলায় সাত আসামিই কারাগারে, জামিন নামঞ্জুর
ছবি: সংগৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার দুই আসামির জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এ মামলায় গ্রেফতার সাত আসামিকেই কারাগারে পাঠানো হলো।

বিজ্ঞাপন

কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন নুর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর আলম। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনাইদ তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের পর শনিবার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা। তিনি আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ ও মো. শাহীন ইকবাল জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেন এবং দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) একই মামলায় গ্রেফতার আরও পাঁচ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তারা হলেন মো. মফিউল ইসলাম, মো. রুবেল ইসলাম, মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন, আসাদুল ইসলাম এবং এসএম এমদাদুল রহমান। সর্বশেষ দুই আসামির জামিন আবেদন বাতিল হওয়ায় এ মামলায় গ্রেফতার সাতজনই এখন কারাগারে রয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, যুব উন্নয়ন অধিদফতরের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২ জন নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। একাদশ গ্রেডের এসব পদে নিয়োগের প্রথম ধাপে গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। ঢাকা মহানগরীর ৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে এ বাছাই পরীক্ষা আয়োজনের সূচি নির্ধারণ করা হয়।

তবে পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য সামনে আসে। এজাহারে বলা হয়েছে, সকাল ১০টা ৬ মিনিটের দিকে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র প্রকাশের খবর পান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৫৪ মিনিট আগে পাওয়া ওই তথ্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে অধিদফতরে সংরক্ষিত মূল প্রশ্নপত্র যাচাই করা হয়। এতে দুটি প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়োগ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পরীক্ষার আয়োজন করতে বরাদ্দ করা সরকারি অর্থ, জনবল ও অন্যান্য সম্পদের অপচয় হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে আরও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহন অথবা বিতরণের কোনো পর্যায়ে যোগসাজশের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে গেল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আতিকুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD