Logo

আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলেন পরীমণি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২
আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলেন পরীমণি
ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক দিন পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান পরীমণি। এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলার ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমণি আদালতে হাজির হতে পারেননি বলে তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময়ের আবেদন করেন। জামিন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বলেও জানান আইনজীবী।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু পরীমণি আদালতে হাজির হননি। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমণি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি বলে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল এ আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে পরীমণির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও আদালতে হাজির না হওয়ায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি। ওই বছরের ২৭ মার্চ অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন আবেদন করেন পরীমণি। ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন। ফলে মামলার বিচার কার্যক্রম চলতে আর কোনো বাধা থাকেনি।

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরীমণি ও জিমির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে ২০২৩ সালের ২৫ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।

২০২২ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার আদালতে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলার এজাহারে নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি ও তার সহযোগীরা সাভারের বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে যান। সেখানে তারা অ্যালকোহল পান করেন। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমণি তাকে ডেকে কিছুক্ষণ বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে আরও বলা হয়, বোতল দিতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি নাসির উদ্দিনকে গালমন্দ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মোবাইল ফোন তার দিকে ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিনের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরীমণি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তাকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও করেন বাদী।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD