আমুসহ আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
এর আগে গত ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রেজিস্ট্রারের কাছে সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। অভিযোগটি দাখিলের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার সাত আসামি হলেন—সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এই সাত আসামির মধ্যে ছয়জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অপর আসামি মির্জা আজম পলাতক।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগ দাখিল
গত ২৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আমির হোসেন আমুসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা হয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়।
সেদিন চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁরা যুক্ত ছিলেন এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আন্দোলন দমনে পরিকল্পনা ও নির্দেশনার অভিযোগ
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলন দমনকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করেছিল। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের নেতারা আন্দোলন দমনের কৌশল নির্ধারণ, কারফিউ জারি এবং সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা এসব নেতা আন্দোলন দমনে পরিকল্পনা প্রণয়ন, উসকানি, সহযোগিতা ও নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রমাণ হিসেবে শেখ হাসিনার কথোপকথন ও জাতিসংঘের প্রতিবেদন
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত ও নথি প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনা ও অভিযুক্তদের কথোপকথনের রেকর্ড এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রসিকিউশনের বক্তব্য, আন্দোলন দমনের নামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না; বরং এটি পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত কর্মকাণ্ডের অংশ।
এদিকে, ডা. দীপু মনি ও ড. আব্দুর রাজ্জাক ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলারও আসামি।
বিজ্ঞাপন
আজকের শুনানিতে কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে?
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ এবং সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হতে পারে। শুনানির পর মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া কোন দিকে এগোবে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।








