পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কায় মাথা ফাটল বিচারপ্রার্থীর

মামলায় জামিন পাওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় চিত্রনায়িকা পরীমনির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে গেছে। এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জাগো নিউজের দুই সাংবাদিক। তাদের একজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত বিচারপ্রার্থীকে মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা বড় ভাইকে ব্যান্ডেজ পরিয়ে দিতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে চিকিৎসা করিয়ে পরে জানাব।’
এদিকে ঘটনার কারণ জানতে এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের শিকার হন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় আশিকুজ্জামানের পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। অন্যদিকে আব্দুল্লাহ আল কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ সময় আশিকুজ্জামানের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তিনি বর্তমানে আদালতসংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
শুধু জাগো নিউজের সাংবাদিকরাই নন, অন্য গণমাধ্যমের কর্মীরাও এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। সমকালের প্রতিবেদক রবিউল হোসেনের অভিযোগ, পরীমনি তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন দাবি করেছেন, পরীমনি তার হাতে খামচি দিয়েছেন।
ঘটনার সময় আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের নীরব থাকতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও তাদের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে করা একটি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় বুধবার (৪ নভেম্বর) পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এর পরদিন বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নেন এই চিত্রনায়িকা। শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন। এদিন সকালে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন পরীমনি। জামিন পাওয়ার পর আদালত ছাড়ার সময়ই নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বিচারপ্রার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।








