কত টাকার মুচলেকায় জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি?

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
বিজ্ঞাপন
শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী জানান, বুধবার (৪ নভেম্বর) পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এর পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। সেদিন পরীমনির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে জানানো হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। পরে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি মামলাটিতে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেদিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
২০২৪ সালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পরে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ওই বছরের ২৫ জুন তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
বিজ্ঞাপন
২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে অ্যালকোহল পান করা নিয়ে একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে পরীমনির বাদানুবাদ হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের একটি বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দিতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন। পরে একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলায় দাবি করা হয়।
নাসির উদ্দিনের আরও অভিযোগ, পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মারধর করেন, হত্যার হুমকি দেন এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনার পর পরীমনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পাল্টা মামলা করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।








