চট্টগ্রাম টেস্ট

পরাজয়ের শঙ্কা নিয়ে চতুর্থ দিন পার করল শান্ত বাহিনী


Janobani

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:১৬ অপরাহ্ন, ২রা এপ্রিল ২০২৪


পরাজয়ের শঙ্কা নিয়ে চতুর্থ দিন পার করল শান্ত বাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কার ছুঁড়ে দেওয়া ৫১১ রানের পাহাড়সমান লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চা-বিরতির আগ পর্যন্ত টাইগার শিবিরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটের বিনিময়ে ১৩২ রান। চা-বিরতি থেকে ফিরে লঙ্কান বোলারদের শক্ত হাতে সামাল দেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস ও সাকিব আল হাসান। তবে দিনের শেষ ঘণ্টাতেই যেন ছন্দপতন ঘটে স্বাগতিক শিবিরে।


সাকিবের পর ড্রেসিং রুমে ফিরেযান ব্যাটার লিটন কুমারও। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রান তুলে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ দল। ফলে পঞ্চম দিনে ম্যাচ জিততে হলে ৩ উইকেট হাতে নিয়ে আরও ২৪৩ রান করতে হবে শান্ত বাহিনীদের।


মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৫১১ রানের জবাবে লঙ্কান বোলারদের শক্ত হাতেই সামাল দেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসান। জয় ১৯ ও জাকির ১১ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম সেশন শেষ করেন।


লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয় ওভারে জয়সুরিয়াকে চার হাঁকান ব্যাটার জয়। একই ওভারে জয়সুরিয়ার বলে ক্লিন বোল্ড হন ওপেনার এই ব্যাটার। ফেরার আগে তিন বাউন্ডারিতে করেন ২৪ রান।


আরও পড়ুন: ক্যাচ মিস আর হতাশাময় প্রথম সেশন


এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে বেশি সময় স্থায়ী হয়নি শান্ত-জাকির জুটি। বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে খোঁচা দিতে গিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৯ রান।


পরে মুমিনুলকে সাথে করে রানের গতি বাড়াতে থাকেন অধিনায়ক শান্ত। তবে লাহিরু কুমারার বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে শান্ত ফিরলে ভেঙে যায় তাদের ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ৫৫ বলে ২০ রান করে ফেরেন তিনি।


এরপর মুমিনুল ও সাকিব জুটি গড়েন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুতই ফিফটি তুলে নেন মুমিনুল হক। তবে হঠাৎ-ই জয়সুরিয়ার বলে ক্যাচ তুলে দেন সাবেক এই কাপ্তান। ৫৬ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৫০ রান করে শেষ হয় তার চট্টগ্রাম টেস্টের এই ইনিংস।


মুমিনুল ফেরার পর লিটনকে নিয়ে জুটি গড়ে চা-বিরতিতে যান সাকিবরা। দু’জনেই উইকেটে থিতু হয়েছিলেন। খোলস ছেড়ে ব্যাট করতে থাকা সাকিবের ব্যাটে ভর করেই স্বপ্ন বুনেছিল বাংলাদেশ দল। তবে উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি এই ব্যাটার।


ইনিংসের ৫০তম ওভারে কামিন্দু মেন্ডিসের অফ স্ট্যাম্পের বাইরে বলে পয়েন্টে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে আউট-সাইড এডজ হয়ে গালিতে থাকা ফিল্ডারের কাছে ধরা পড়েন। এতেই থেমে যায় সাকিবের ৫৩ বলে ৩৬ রানের ইনিংস।


সাকিব ফেরার পর লিটনও ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি এদিন। লাহিরু কুমারার খাটো লেংথে ডেলিভারিতে পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে খানিকটা থেমে আসায় ভালোমতো ব্যাটে লাগেনি বল। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে কুশল মেন্ডিসের গ্লাভসে ধরা পড়েন লিটন দাস। এতে ৭২ বলে ৩৮ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।


আরও পড়ুন: যেসব আমল দিয়ে কদরের রাত পালনের পরামর্শ মুশফিকের


চতুর্থ দিনের একদম শেষবেলায় ড্রেসিং রুমে ফেরেন ব্যাটার দিপু। কামিন্দু মেন্ডিসের অফ স্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৪ বলে মাত্র ১৫ রান করে আউট হন তিনি।


চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৬৮ রান। পঞ্চম ও শেষ দিনে জয়ের জন্য ২৪৩ রান প্রয়োজন বাংলাদেশ দলের। তাইজুল ইসলাম ১০ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৪৪ রানে পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করবেন।


এর আগে, ৬ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে সফরকারীরা। তৃতীয় দিন শেষে ৩৯ রান করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস এদিন ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন। তবে ব্যক্তিগত ৫৬ রানের মাথায় সাকিবের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে লঙ্কান এই অলরাউন্ডারকে ফিরতে হয়।


এরপর মাত্র ৪ ওভার ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন লঙ্কান দলপতি ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। ততক্ষণে টাইগারদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫১১ রানের।


উল্লেখ্য, ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৫৩১ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৭৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ দল। ফলে প্রথম ইনিংসের ৩৫৩ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছিল লঙ্কান ব্যাটাররা।


এমএল/