Logo

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি প্রকল্পে বন্ধ করতে হবে ওভারল্যাপিং

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:১৯
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি প্রকল্পে বন্ধ করতে হবে ওভারল্যাপিং
ছবি: সংগৃহীত

দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি বা ওভারল্যাপিং বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে বিদ্যমান প্রকল্পের সঙ্গে এর উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের কোনো মিল বা পুনরাবৃত্তি আছে কি না, তা প্রযুক্তিনির্ভরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তর যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, এনএসডি মূলত একটি রেগুলেটরি বিষয়, আর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি নীতিগত বিষয়। দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখলে চলবে না। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে একই ধরনের কার্যক্রম থাকলে প্রত্যাশিত ফল অর্জন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এডিপির নতুন প্রকল্প প্রস্তাব যাচাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোনো নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় প্রকল্প চলমান আছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো যাবে এবং অপচয় কমবে।

তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্পে ডুপ্লিকেশন বা ওভারল্যাপিং কমানো সম্ভব হলে এডিপি বাস্তবায়নে সৃষ্ট অদক্ষতার একটি বড় অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে শিল্পমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, প্রতিটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই বাজার দখল করবে। তাই কৃত্রিমভাবে বাজার সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের যে গভীর সংযুক্তি তৈরি হয়েছে, তা থেকে হঠাৎ করে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই বাস্তবতায় দেশের শিল্প ও অর্থনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

উৎপাদনশীলতাকে শুধু কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। কম শ্রম ও কম সম্পদ ব্যবহার করে অধিক পরিমাণে উন্নতমানের পণ্য ও সেবা উৎপাদন নিশ্চিত করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা থাকলে সাধারণ শ্রমিকরাও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন। তাঁর মতে, দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে সমস্যা শুধু দক্ষতার ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নয়; নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা এবং দৃঢ় সংকল্পের ঘাটতিও বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন শিল্পমন্ত্রী।

আলোচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং এনপিওর মহাপরিচালক মোহা. নায়েব আলীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD