বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.৯ শতাংশ হতে পারে, পূর্বাভাস আইএমএফের

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)–এর সর্বশেষ পূর্বাভাস। সংস্থাটির ধারণা, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় এসব পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়।
আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কমানো হয়েছে। এর আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাংক ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল।
মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা না থাকায় সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ব্যাংককে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক
১২ অক্টোবর শুরু হওয়া আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলন চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সম্মেলনের অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী আইএমএফের নিরাপত্তা পরিচালক উরজিত প্যাটেল এবং বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়ের্দের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ব অর্থনীতিতেও বাড়ছে অনিশ্চয়তা
আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতি তার স্থিতিস্থাপকতা ধরে রেখেছে। তবে এই সক্ষমতা বজায় রাখার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে।
প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগ অর্থনীতির সম্ভাব্য ক্ষতি কিছুটা সামাল দিতে সহায়তা করছে।
বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা
আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে উঠতে পারে। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি এখনো রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে তীব্র হলে জ্বালানি ও খাদ্যের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে প্রত্যাশা কমে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, এআই খাতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকলে, উৎপাদনশীলতা দ্রুত বাড়লে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার উন্নতি হলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমূল্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে।
আইএমএফের নীতিগত অগ্রাধিকার
বিজ্ঞাপন
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারি অর্থব্যবস্থার সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ উন্মুক্ত রাখার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী পূর্বাভাস এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কার্যকর অর্থনৈতিক নীতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।








