Logo

শেয়ারবাজারে চলছেই দরপতন, দুই দিনেই লেনদেন তিনশ কোটির ঘরে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:২৮
শেয়ারবাজারে চলছেই দরপতন, দুই দিনেই লেনদেন তিনশ কোটির ঘরে
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি বাজারে লেনদেনের গতিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা দুই কার্যদিবস লেনদেন তিনশ কোটি টাকার ঘরে থাকায় বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৮ অক্টোবর) ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। একই সঙ্গে প্রধান মূল্যসূচকসহ অন্য দুটি সূচকও নিম্নমুখী ছিল। দিন শেষে বাজারটিতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। চলতি বছরে প্রথমবারের মতো টানা দুই কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন তিনশ কোটি টাকার ঘরে থাকার ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।

রবিবার সকালে ডিএসইতে লেনদেন শুরুর পর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে। ফলে দিনের প্রথম দিকে মূল্যসূচকেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে আধাঘণ্টার কিছু বেশি সময় পর সেই চিত্র বদলে যায়। এরপর লেনদেনের বাকি সময়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে থাকায় দরপতনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এর ফলে চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত লেনদেন হওয়া দুই কার্যদিবসেই বাজারে দরপতন দেখা গেল।

বিজ্ঞাপন

ডিএসইতে ২১৭ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে

দিন শেষে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২১৭টির দাম কমেছে এবং ৬৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভালো মানের বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ১০৫টির দাম কমেছে এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

বিজ্ঞাপন

মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৬টির দাম কমেছে এবং ছয়টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে লভ্যাংশ না দেওয়ায় ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে ৫৬টির দাম কমেছে এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে একটির দাম বাড়লেও ১৮টির দাম কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ১২টির দাম।

তিনটি সূচকেই পতন

বিজ্ঞাপন

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার প্রভাবে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বাছাই করা ৩০টি ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক চার পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৫ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক তিন পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

লেনদেন বেড়েছে ৪৮ কোটি টাকা

বিজ্ঞাপন

সূচকের পতন অব্যাহত থাকলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে। রবিবার বাজারটিতে মোট ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এ পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে সোনালী আঁশ। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আর ১২ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, পূবালী ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

সিএসইতেও অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে রবিবার লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭২টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩৬ পয়েন্ট কমেছে। তবে বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় এক কোটি টাকা বেড়ে ৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে মোট ৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

সামগ্রিকভাবে দুই শেয়ারবাজারেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বাড়লেও তা তিনশ কোটি টাকার ঘরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাজারের সূচক ও লেনদেনের এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD