Logo

বড় বিপর্যয়ে আছে দেশবাসী! পারবেন কি সফল হতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

profile picture
কাজী শুভ্র রহমান
২৪ জুন, ২০২৬, ১৫:২২
বড় বিপর্যয়ে আছে দেশবাসী! পারবেন কি সফল হতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

ক) ‘মব জাষ্টিস ’ শব্দ দুটির সাথে খুব একটা পরিচিত ছিলনা এ দেশের মানুষ। ‘২৪ এর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মব জাষ্টিস প্রথার। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বল্প সময়ে দেখা যায় মব জাষ্টিসের ব্যাপকতা। বিগত ১৭ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করলেও তেমন সক্রিয় হয়ে ওঠেনি পোড় খাওয়া পুলিশ। সরকার পরিবর্তন হলেও অধিকাংশ পুলিশ আওয়ামী পন্থী।

বিজ্ঞাপন

চাকরীর কারণে চাকরি করে যাচ্ছে তবে প্রকৃত পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে না বলে তা দৃশ্যমান। না জানি কোন অপরাধে ছুতো খুঁজে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু হয় এই আতঙ্কে আছে দেশের লাখো পুলিশ। সেখান থেকে পুলিশকে বের করে আনার দায়িত্ব সরকারের। পুলিশের মনোবল বাড়াতে এবং আত্মরক্ষার জন্য বন্দুকের ব্যবহার এর অনুমতি দিতে হবে তবেই পুলিশ হয়ে উঠবে সাহসী। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসীকে স্পটেই গুলি করে মেরে দেয়। এ ব্যাপারে পুলিশকে কোন কৈফিয়ত দিতে হয় না।

১৮ই ফেব্রুয়ারি হোম মিনিষ্টার সালাউদ্দিন আহম্মেদ বলেছিলেন- দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না। কিন্তু তিনি তাঁর কথা রাখতে পারেননি। সরকার গঠনের চার মাসের মধ্যে এ পর্যন্ত ৪০ জনকে মব জাষ্টিসের আওতায় হত্যা করা হয়েছে।

খ) দেশের বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি গভীর শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা সত্বেও অপরাধের লাগাম টানা যাচ্ছে না। এমন চিত্র কোনভাবেই একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রের লক্ষণ হতে পারে না। খুন, ছিনতাই, ধর্ষণ, ডাকাতি, অপহরণ কিংবা অস্ত্রের প্রকাশ্য মহড়া যে ভাবে বাড়ছে তাতে জনজীবণ চরম আতংকগ্রস্থ্য হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

গণঅভ্যুত্থানের পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জামিনে মুক্ত হয়ে আসা শীর্ষ ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের আন্ডারওয়ার্ল্ড পূনর্গঠনের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে গোলাগুলি, হত্যাকান্ড ঘটছে তাতে রাষ্ট্রের উপর আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে। টিআইবি সাম্প্রতিক গবেষণায় যে চিত্র তুলে ধরেছে তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। মার্চ ও এপ্রিল/২৬ মাসে দেশে ৬০৫ টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ এবং ১২৯টি পুলিশের উপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ পরিসখ্যাণ স্পষ্ট করে যে, অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মনোবল ভেঙে পড়া পুলিশের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া।

গ) আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায় সারাদেশে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ৫ই আগষ্ট ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ এর ৩০শে মার্চ পর্যন্ত ৩৩৭ জন হত্যার শিকার হয়। এর মধ্যে ২০২৪ এর শেষ ৫ মাসে ৯৬ জন, ২০২৫ সালে ১৯৮ জন, ২০২৬ প্রথম তিন মাসে ৪৩ জন হত্যার শিকার হয়। ২০২৬ সালে ঢাকায় ৮১ জন, চট্টগ্রামে ৩৬ জন, খুলনায় ১০ জন, রাজশাহীতে ১৭ জন, বরিশালে ১৬ জন, রংপুরে ১২ জন, ময়মনসিংহে ১৩ জন সিলেটে ৪ জন হত্যার শিকার হয়। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে এলেক্স ইমন খুন হয়, গাজিপুরে একই পরিবারে ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অতি সম্প্রতি দেশে ৭ দিনে রামিসা সহ ৪ জন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ৬ মে সিলেটে ৪ বছরের ফাহিমাকে, ১ মে ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ বছরের লামিয়াকে, ১৬ মে মুন্সিগঞ্জে ১০ বছরের আছিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। নওগাঁর নিয়ামতপুরে স্বামী স্ত্রী ও ২ সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে, নারায়ণগঞ্জে বোনের ধর্ষককে ১১ বছরের ছেলে গুলি করে হত্যা করে, রাজধানীর ক্যান্সার হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আহাম্মদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে টেন্ডারবাজীরা, নেত্রকোণায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে অন্ত:স্বত্বা করে দেয় মাদ্রাসা শিক্ষক আমানউল্লাহ, কুষ্টিয়ায় পিটিয়ে হত্যা করে পীর আব্দুর রহমানকে।

ঘ) ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্যানুযায়ী গত বছর কিশোর গ্যাং ছিল ১১৮ টি। মিরপুর বিভাগের ৭ টি থানা এলাকায় ৩২টি গ্যাং সক্রিয়, পল্লবি থানা এলাকায় ১৪ টি গ্রুপ, তেজগাঁও বিভাগে ৬ টি থানা এলাকায় ২৬ টি গ্যাং, মোহাম্মদপুরে ১৬ টি, লালবাগে ১০ টি, ওয়ারীতে১৩ টি, মতিঝিলে ১০ টি, গুলশানে ১১টি, ও উত্তরায় ১০টি গ্যাং সক্রিও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র মতে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা কিম্বা প্রভাবশালীরা এ সব গ্যাং ব্যবহার করে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে। বাজার, নির্মাণকাজ, ফুটপাত, পরিবহণ, মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিশোরদেরকে ব্যবহার করা হয়। অধিকাংশ কিশোররা বস্তি থেকে উঠে আসা হতদরিদ্র পরিবারের অশিক্ষিত ছেলেরা।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে ঢাকার দুই সিটির অন্তত ২১ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রেণের অভিযোগ রয়েছে। অভিভাবক শূণ্য গ্যাংগুলি আবার বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে নতুন মুখ। পর্দার আড়ালে থেকে যারা কিশোরদেরকে ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত কিশোর গ্যাং বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। গড ফাদাররা জানে কিশোররা যত বড় অপরাধই করুক না কেন শাস্তি হয় লঘু। সহজেই বেরিয়ে আসে জামিনে। তাই তাদেরকে কাঁচা টাকার লোভ দেখিয়ে, গন্ধ শুকিয়ে করা হচ্ছে বিপথগামী। ভেঙে পড়া সমাজ বিবর্তনে পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য্য। পুলিশের কঠোরতা ছাড়া সন্ত্রাস দমন সম্ভব নয়। পাশাপাশি আইন হতে হবে কঠোর। তবেই যদি এ সমাজ সুধরায়।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD