Logo

সত্যের মৃত্যু হলো, মিথ্যার হলো জয়!

profile picture
কাজী শুভ্র রহমান
২৯ জুন, ২০২৬, ১৫:১৬
সত্যের মৃত্যু হলো, মিথ্যার হলো জয়!
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে নবী করিম সাঃ কবর জিয়ারতের অনুমতি দেন। উল্লেখ্য মানুষের মৃত্যুর পর সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। মৃত ব্যক্তির আত্মা কবরে থাকে না।

বিজ্ঞাপন

মৃত ব্যক্তি আমাদের কথা শুনতেও পাই না। মৃত ব্যক্তির আত্মাকে রাখা হয় পবিত্র কোরআন মতে বারজাকের ইল্লিয়িনে এবং সিজ্জিনে। ভাল আত্মা অর্থাৎ যারা নির্দোষ তাদেরকে রাখা হয় ইল্লিয়িনে এবং কুদরতি ভাবে দেখানো হয় বেহেস্তের আলামত। মন্দ আত্মা বা পাপি আত্মাকে রাখা হয় সিজ্জিনে।

কুদরতিভাবে তাদেরকে দেখানো হয় জাহান্নামের নিদর্শন এবং তা দেখে কষ্ট পেতে থাকে। দেহ না থাকায় আত্মা কথা বলতে পারে না। শুনতে পাইনা, পারে না দুনিয়ার কোন মানুষকে উপকার করতে। আমরা জানি না কার আত্মা কোথায় থাকে। আত্মার শান্তির জন্য (কেয়ামত পর্যন্ত) একটি কাজের কথা আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন তোমরা মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য সদকায়ে জারিয়া কর।

অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির নামে এমন কিছু কর যা মানব কল্যাণে কাজে লাগে। যেমন মৃত ব্যক্তির নামে বৃক্ষ রোপন কর, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, অসহায় পরিবারের অসুস্থ্য ব্যক্তির চিকিৎসা, গরিবের মেয়ে বিবাহ দেওয়া, কোন প্রতিষ্ঠান করে দেওয়া যা জনকল্যাণে আসে। গৃহহীন মানুষের জন্য বসত ঘর তুলে দেওয়া ইত্যাদি কাজকে সদকায়ে জারিয়া বলে। সদকায়ে জারিয়া করলে আল্লাহপাক তার আমল নামায় সওয়াব যোগ করে দেবে যা কাজে আসবে কেয়ামতের মাঠে বিচারের দিনে।

বিজ্ঞাপন

১২৩৬ খৃষ্টাব্দে আলেমে দ্বিন আওলিয়া খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি রহঃ এর ওফাতের পর তাঁর কবরে ঘিরে গড়ে ওঠে মাজার সংস্কৃতি। মাজার পূজাকে মহান আল্লাহপাক হারাম করেছেন। তথাপি এক শ্রেণির মানুষ মাজারকে তথা কবর স্থানকে ঘিরে গড়ে তোলে একটি কুসংস্কার। আওলিয়ার মাজারে দান করাকে তারা সওয়াব বা পূণ্যের কাজ মনে করে। মাজার পূজারীদের ধারণা কবরের পাশে বসে মৃত আওলিয়ার কাছে কিছু চাইলে তিনি তা দিয়ে থাকেন(নাউজুবিল্লাহ)।

উল্লেখ্য পার্থিব জীবনে বিন্দু থেকে সিন্ধু পর্যন্ত সব কিছু দেয়ার মালিক মহান আল্লাহ পাক। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি রহঃ ইসলাম ধর্ম প্রচারে ভারতে এলে তিনি অনেক বাঁধার সম্মুখিন হন। রাজা পৃথ্বিরাজকে দমন করে আমৃত্যু তিনি ৯৯ হাজার বিধর্মী তথা মূর্তিপূজারী তথা হিন্দুকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন। উল্লেখ্য সকল বিধি নিষেধ অমান্য করে মাজার পূজারীরা খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি রহঃ এর মাজারে গান বাজনা করে এবং মাজার পূজারীদের দেওয়া দান দক্ষিণা গ্রহণ করে। ঠিক তদ্রুপ সমকালীন সময়ে সিলেটে আসেন ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালার রহঃ। তিনি সিলেটের রাজা গৌর গোবিন্দকে বিতাড়িত করে ইসলাম ধর্ম প্রচারে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন এবং মাত্র ৬২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। সাথে ছিলেন আপন ভাগিনা হযরত শাহ পরাণ রহঃ।

হযরত শাহজালাল রহঃ ও হযরত শাহ্ পরাণ রহঃ এর কবর ঘিরে মাজার পূজারিরা আস্তানা গেড়ে ব্যবসা শুরু করেন। বিপদগ্রস্থ মানুষেরা মনে করেন শাহজালাল রহঃ এর মাজারে দান দক্ষিণা করলে মনের আশা পূরণ হয় এবং যা চাইব তা তিনি দিয়ে দেবেন( নাউযুবিল্লাহ)। এভাবে প্রায় ৮০০ বছর ধরে চলে আসছে।

বিজ্ঞাপন

মাজার পূজারীদের দেওয়া উপঢৌকন এর অর্থ ভোগ করে আসছে মাজার পূজারীরা সহ টাউট বাটপাররা। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা মাজারের খাদেমরা যুগে যুগে ভোগ করে আসছে। বানিয়েছে গাড়ি বাড়ি। চলে যায় বিদেশ ভ্রমণে। সবই দানের টাকায়। এমনকি বাটপাররা এই টাকা দিয়ে কোরবানী করে।

অদ্যাবধি মাজারের টাকা নিয়ে কেউ কোন কথা বলেনি। দীর্ঘ ৮০০ বছরের প্রথা ভেঙে প্রকাশ্যে দানের অর্থ গনণা সহ সরকারি তহবিলে জমা রাখার ব্যবস্থা করেন ডিসি মোঃ সারোয়ার আলম। ইতিহাসে এই প্রথম প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করা হলো। মাত্র পাঁচ দিনে ১৮ লাখ টাকার উপরে বিদেশি মুদ্রা সহ স্বর্ণ পাওয়া যায়। উক্ত অর্থ সহ আরো ৫ লাখ টাকা যোগ করে জমা দেন সরকারি কোষাগারে। এহেনও অবস্থা দেখে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে মাজারের টাকা ভোগ করা সুবিধাবাদি লোভি হায়েনাদের তথা দুষ্টু চক্রের। এই অবস্থায় দুষ্টু চক্র সংগবদ্ধ হয়ে গোপনে লাইন করে ডিসি সারোয়ার আলমকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে ন্যাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। এখানে সত্যের মৃত্যু হলো। জয় হলো অসৎ অসাধু লোভি সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের।

খ) মোঃ সারোয়ার আলম এ দেশের মানুষের কাছে কোন নতুন নাম নয়। এর আগে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হিসাবে দায়িত্ব পালন কালীন তিনি দেশ ব্যাপী সততা ও সাহসিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। দেশের ইতিহাসে খাদ্যে ভেজাল বিরোধী সাড়াশি অভিযানে, করোনা মহামারির সময় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে প্রতারণা ও জালিয়াতি বন্ধে যে ভ’মিকা রাখেন তা দেশের ইতিহাসে বিরল। সিলেট জেলা প্রশাসনে যোগ দান করার পর তাঁর সেই চেতনা ও দৃঢ়রূপ আবারও দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হযরত শাহজালাল রহঃ এবং হযরত শাহ পরাণ রহঃ এর কবরে শত শত বছর ধরে চলে আসা বিকৃত অনাচার ও অপসংস্কৃতি দূর করতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেন। মাজারের পবিত্রতা নষ্ট করে যারা সেখানে মাদকের ব্যবসা ও সেবনের আখড়া চালাচ্ছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী।

একই সঙ্গে মাজারের কোটি কোটি টাকার দানের হিসাবের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনার জন্য দানবাক্স সিলগালা করা ও সিসিটিভি স্থাপনের প্রয়াস ছিল সম্পূর্ণ জনস্বার্থ মূলক ও প্রশংসনীয় । মাদকের অপব্যবহার রোধে ও দানের টাকার স্বচ্ছতা আনার পদক্ষেপ প্রশংসিত না হয়ে তাঁকে বদলি করে আনা হলো ঢাকাতে। এখানে বিজয় হলো চোর ও সন্ত্রাসীদের। লোভিরা হাত তালি দিলেও সিলেটবাসী পেয়েছে কষ্ট। এখানে ডিসি সারোয়ার আলম পরাজিত হননি পরাজিত হলো সরকার। পরিশেষে বোঝা গেল ক্ষমতাধর হলো চোর বাটপার।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD