শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে আসছেন ‘রাজনৈতিক নেতারা’

বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডিতে আবারও রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগে জারি করা পরিপত্র বাতিল করে নতুন করে নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, ম্যানেজিং কমিটিতে বিদ্যুৎ শাহী সদস্য, দাতা সদস্য এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। এসব পদে সাধারণত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বা তাদের সমর্থকেরাই থাকেন। ফলে অঘোষিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদেও আবার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সভাপতি হওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্তও শিথিল করার পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে সভাপতি হওয়ার জন্য ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি থাকার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা বাতিল করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত প্রবিধান সংশোধন করা হলে সভাপতির জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত তুলে দেওয়া হবে। এর ফলে ২০২৪ সালের আগের নিয়মই আবার কার্যকর হতে পারে, যেখানে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতির জন্য নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক ছিল না।
বিজ্ঞাপন
ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নতুন ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যদের সরাসরি কমিটি গঠনে ভূমিকা থাকবে না। এর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে।
এরপর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ওই তালিকা থেকে একজনকে নির্বাচন করে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শিগগিরই নতুন পরিপত্র বা নির্দেশনা জারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।






