১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনে আসছে বড় পরিবর্তন, বন্ধ হচ্ছে ‘ওভার সনদ’

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আগামী এপ্রিলের মধ্যে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এবারের নিবন্ধনে আসছে ঐতিহাসিক পরিবর্তন, যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান ‘ওভার সনদ’ প্রথাকে শেষ করে দেবে। নতুন নীতির আওতায় সারাদেশের প্রতিটি শূন্য পদ অনুযায়ী সমসংখ্যক প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিবন্ধন দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
পদ অনুযায়ী নিবন্ধন: নিয়োগ প্রক্রিয়ার মূল পরিবর্তন
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে নিবন্ধন পরীক্ষার সঙ্গে শূন্য পদের কোনো সরাসরি সম্পর্ক থাকত না। পরীক্ষার মাধ্যমে বহু প্রার্থীকে সনদ দেওয়া হতো এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ করা হতো। এবার এনটিআরসিএ আগে সারাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলোর তথ্য সংগ্রহ করবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য ইতিমধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ই-রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপ ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হলেও পরে সময় বৃদ্ধি পেয়ে ১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়। এরপর ৩১ মার্চ থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘ই-রিকুইজিশন’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত।
বিজ্ঞাপন
এনটিআরসিএ পরিচালক (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ জানান, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দিষ্ট ইউজার আইডি ব্যবহার করে অনলাইনে তথ্য প্রদান করতে হবে। অফলাইন, হার্ডকপি বা ই-মেইল কোনো রিকুইজিশন গ্রহণযোগ্য হবে না। আইনের সঙ্গে অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে এমপিও বাতিলও করা যেতে পারে।
পরীক্ষা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন
বিজ্ঞাপন
এবারের নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রার্থীদের বাছাই পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আসছে। আগে তিন ধাপে (প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইভা) পরীক্ষা হলেও ভাইভার নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে যুক্ত হতো না। নতুন পদ্ধতিতে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ (MCQ) পরীক্ষা এবং ভাইভা মিলিয়ে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হবে। প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে যুক্ত করা হচ্ছে। এতে প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, উপস্থাপনা ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন সম্ভব হবে।
এছাড়া স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একক ও মানসম্মত পরীক্ষা কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি না হয়।
ফলাফল প্রকাশে দ্রুততা
বিজ্ঞাপন
নতুন ব্যবস্থায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের দীর্ঘসূত্রী প্রক্রিয়ার কারণে প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকত, যা নতুন পদ্ধতিতে দূর করা হবে।
এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এবার থেকে যতটি শূন্য পদ থাকবে, ঠিক ততজনকেই সনদ দেওয়া হবে। পরীক্ষা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কোনো আপস থাকবে না। এমসিকিউ ও ভাইভার ফল একত্রে ব্যবহার করে প্রার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হবে। দ্রুত ফল প্রকাশের মাধ্যমে প্রার্থীদের দীর্ঘসূত্রী অপেক্ষা এড়ানো হবে।
বিজ্ঞাপন
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের এই নতুন নীতি ও পদ্ধতি শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বাস্তবমুখিতা নিশ্চিত করবে, যা দেশের শিক্ষা খাতের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।








