অনলাইন ক্লাস শুরু হবে কবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা মহানগরীর শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সরাসরি ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, তীব্র যানজট এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই নতুন পদ্ধতি চালু হচ্ছে। আগামী রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে নির্দিষ্ট কিছু স্কুল ও কলেজে অনলাইন ক্লাস শুরু হবে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ঘোষণা দেন।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে তিন দিন—শনিবার, সোমবার ও বুধবার সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠ গ্রহণ করবে। অন্যদিকে রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে বহাল থাকবে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই ব্যবস্থা আপাতত শুধু মহানগর ও মেট্রোপলিটন এলাকার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু করা হবে। সারা দেশে এটি একযোগে বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, সেসব জায়গায় প্রাথমিকভাবে এই পদ্ধতি কার্যকর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন ক্লাস পরিচালনার জন্য শিক্ষকরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই পাঠদান করবেন। পাশাপাশি ওয়াইফাই ও প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বোর্ড পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত দীর্ঘসূত্রতায় শিক্ষার্থীদের জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় হারিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত না রেখে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি এ বিষয়ে কঠোর নজরদারিরও ঘোষণা দেন।
এছাড়া বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সেই জ্ঞান দেশের কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশ দেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কমপক্ষে তিন বছর সেখানে কর্মরত থাকতে হবে।
বিজ্ঞাপন
ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন।
ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, এ ধরনের অনিয়ম রোধে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।







