দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পাচ্ছে বগুড়া

বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানটিকে সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে অগ্রগতি আনতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ইউজিসির সদস্য প্রফেসর মাছুমা হাবিব এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহা. হাছানাত আলী উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়)।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়ায় আগে থেকেই একটি বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও জেলার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং উচ্চশিক্ষার চাহিদা বিবেচনায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জোরালো হয়েছে। নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানটিকেই রূপান্তরের পথকে বেশি কার্যকর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউজিসির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ উদ্দেশ্যে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব অনুমোদিত হলে তা পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পাস হলে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।
এদিকে আইন সংশোধনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয়ও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তার পরিবর্তে উত্তরবঙ্গের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, নতুন উপাচার্য হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের নাম আলোচনায় রয়েছে, যার নিজ বাড়ি বগুড়ায় বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আইন সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।







