Logo

পাসের হার কমতেই উঠছে প্রশ্ন, আগের সাফল্যের রহস্য কী?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৩৫
পাসের হার কমতেই উঠছে প্রশ্ন, আগের সাফল্যের রহস্য কী?
ফাইল ছবি

একসময় পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ মানেই ছিল উচ্চ পাসের হার, বিপুলসংখ্যক জিপিএ-৫ এবং শতভাগ উত্তীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ তালিকা। বছরের পর বছর এসব পরিসংখ্যানকেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতির অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক দুই বছরে সেই চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। অথচ ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট, আর জিপিএ-৫ কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬টি।

দুই বছর আগের হিসাব দেখলে পতনের মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়। ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। অর্থাৎ ২০২৪ থেকে ২০২৬—মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে ৬৫ হাজার ৪৫৩।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষার্থীদের সক্ষমতায় কি হঠাৎ এত বড় পরিবর্তন এসেছে, নাকি এতদিনের মূল্যায়ন ব্যবস্থাতেই ছিল বড় ধরনের ত্রুটি?

বিজ্ঞাপন

৯০ শতাংশের বেশি থেকে ৬২ শতাংশে

এসএসসি পরীক্ষার পুরোনো পরিসংখ্যানও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে বড় বৈপরীত্য দেখায়। ২০০১ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল মাত্র ৩৫ দশমিক ২২ শতাংশ। এরপর ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। ২০০৯ সালে পাসের হার হয় ৬৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, ২০১১ সালে ৮২ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে পৌঁছে যায় ৯২ দশমিক ৬৭ শতাংশে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী কয়েক বছরও উচ্চ পাসের হার অব্যাহত ছিল। করোনাকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে ২০২১ সালে এসএসসিতে পাসের হার ৯৩ শতাংশের ওপরে ওঠে।

তবে এরপর চিত্র বদলাতে শুরু করে। ২০২৪ সালে ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে পাসের হার নেমে আসে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশে। ২০২৬ সালে তা আরও কমে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়েছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন।

বিজ্ঞাপন

একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে জিপিএ-৫-এর ক্ষেত্রেও। ২০২২ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল রেকর্ড ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন। এরপর ২০২৪ সালে তা কমে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ এবং ২০২৬ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে নেমেছে।

এইচএসসিতেও বড় পতন

শুধু এসএসসিতে নয়, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ফলাফলেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। পরের বছর তা ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন

জিপিএ-৫-এর ক্ষেত্রেও পতন ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন জিপিএ-৫ পেলেও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬৯ হাজার ৯৭ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪টি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং উত্তরপত্র যাচাইয়ে কড়াকড়ির প্রভাব সাম্প্রতিক ফলাফলে পড়েছে।

আগে কি খাতা মূল্যায়নে বেশি নম্বর দেওয়া হতো?

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতীতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষার্থীদের প্রতি এক ধরনের ‘সহানুভূতিশীল’ মনোভাবের চর্চা ছিল। পাস নম্বরের কাছাকাছি থাকা শিক্ষার্থীকে সামান্য নম্বর বাড়িয়ে পাস করানো, পরবর্তী গ্রেডের কাছাকাছি থাকলে গ্রেড উন্নীত করা কিংবা উত্তরে কিছু লেখা থাকলেই আংশিক নম্বর দেওয়ার প্রবণতার কথাও তারা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক প্রধান পরীক্ষক জানান, খাতা সংগ্রহ বা বিতরণের সময় পরীক্ষকদের মৌখিকভাবে এমন বার্তা দেওয়া হতো যে, অল্প নম্বরের ঘাটতির কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য না হয়।

তিনি বলেন, ‘বোর্ড থেকে সরাসরি লিখিত আদেশ না থাকলেও খাতা সংগ্রহের বৈঠক কিংবা বিতরণের সময় পরীক্ষকদের বলা হতো যেন অল্প নম্বরের জন্য কেউ ফেল না করে। বিশেষ করে ২৮, ২৯, ৩০ বা ৩১ নম্বরের মতো পাস নম্বরের কাছাকাছি থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানোর বার্তা দেওয়া হতো। ফলে পরীক্ষকেরাও প্রাপ্য নম্বরের চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে দিতেন।’

বিজ্ঞাপন

তার বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু পাস করানো নয়, গ্রেড পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নমনীয়তা দেখা যেত। প্রশ্নের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য না থাকলেও খাতায় কিছু লেখা থাকলে পরীক্ষার্থীর ‘চেষ্টা’ বিবেচনায় নম্বর দেওয়ার প্রবণতাও ছিল।

এখন গুরুত্ব পাচ্ছে প্রাপ্য নম্বর

সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধরনের উদার মূল্যায়ন থেকে সরে এসে পরীক্ষার্থীর উত্তরের মান ও প্রাসঙ্গিকতার ভিত্তিতে নম্বর দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

অর্থাৎ পাস নম্বরের সামান্য নিচে থাকা শিক্ষার্থীকে কৃত্রিমভাবে নম্বর বাড়িয়ে উত্তীর্ণ করার সুযোগ রাখা হচ্ছে না। একইভাবে পরবর্তী গ্রেডে ওঠানোর জন্যও অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা হয়েছে। প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কহীন উত্তর লিখলে শুধু খাতা পূর্ণ করার কারণে নম্বর পাওয়ার সুযোগও কমেছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য পাসের হার কমানো নয়। বরং পরীক্ষার ফল যেন শিক্ষার্থীর প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতার প্রতিফলন ঘটায়, সেটিই এখন প্রধান উদ্দেশ্য।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘খাতা মূল্যায়নে উদারনীতি বা কঠোরনীতি— কোনোটিই অনুসরণ করা হচ্ছে না; বরং বাস্তবধর্মী ও সঠিক মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিমভাবে বেশি পাস বা বেশি জিপিএ-৫ দেখানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়, যোগ্য শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করাই আসল লক্ষ্য। সে অনুযায়ী পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

‘প্রকৃত মূল্যায়নই শিক্ষার জন্য ভালো’

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মনে করেন, বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে কৃত্রিমভাবে উত্তীর্ণ করার চেয়ে প্রকৃত মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করাই শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে ১০০ জনকে পাস করানোর চেয়ে প্রকৃত মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক যতজন পাসের যোগ্য, সেই ফল প্রকাশ করাই শ্রেয়। পাসের হার কমে যাওয়াকে আমি শিক্ষার ক্ষতি হিসেবে দেখছি না; বরং এর মাধ্যমে শিক্ষার আসল ও বাস্তব চিত্র সামনে আসছে।’

তার মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বিচ্যুতি থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন এখন মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে বাস্তবভিত্তিক করার চেষ্টা করছে।

উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এবার অন্তত সঠিক ও যথাযথ মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের যেমন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে খাতা মূল্যায়ন করতে হবে, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনা করে পরীক্ষায় ভালো ফল করার মানসিকতা নিতে হবে। শিক্ষকের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’

তবে ফলাফলের পতনের পেছনে শুধু মূল্যায়ন পদ্ধতি নয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং আর্থসামাজিক সংকটের প্রভাবও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

শুধু ফলাফল দিয়ে শিক্ষার মান বোঝা যায় না

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ ড. মো. সহিদুজ্জামানের মতে, পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়াকে সরাসরি শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, ‘আগে পরীক্ষার ফলাফলকেই মূলত শিক্ষার মানের প্রধান সূচক হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী কত নম্বর বা জিপিএ-৫ পেল, তার চেয়ে সে কতটা শিখল, বিষয়বস্তু কতটা অনুধাবন করতে পারল এবং বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারছে কি না— সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তার মতে, মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রশ্নপত্রের ধরন, মুখস্থনির্ভরতা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার পরিবেশ এবং শহর-গ্রামের সুযোগের বৈষম্য—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ফলাফল বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার মূল লক্ষ্য কেবল বিপুল সংখ্যক জিপিএ-৫ বা উচ্চ পাসের হার অর্জন করা নয়, আবার ফলাফল কমে যাওয়াকে স্বভাবসিদ্ধ বলে মেনে নেওয়ারও সুযোগ নেই। শিক্ষার সঠিক মান নিশ্চিত করতে হলে ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং ক্ষেত্রভিত্তিক বাস্তব জ্ঞান অর্জনের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে’।

‘কঠোর মূল্যায়ন’ বলেই দায় শেষ নয়

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মনে করেন, আগের উচ্চ পাসের হার শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সক্ষমতার কতটা প্রতিফলন করেছিল, সেটিও প্রশ্নের মুখে দেখা দরকার।

তার মতে, মূল্যায়ন কঠোর হওয়ায় ফল কমে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল না করলে তার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, একাডেমিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতা তৈরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে কি না, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

৩১২ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

২০২৫ সালে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো। দাখিল পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা ২২৬টি মাদ্রাসার প্রধানদের বোর্ডে ডেকে লিখিত বক্তব্যসহ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, ‘এবারের দাখিল পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা এর অন্যতম প্রধান কারণ।’

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বোর্ডের অধীনে ২২৬টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে সংশ্লিষ্ট প্রধানদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করছি। কেন একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারল না, শিক্ষার মান কেমন ছিল, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম কী অবস্থায় রয়েছে— এসব বিষয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও সতর্ক করেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের এমপিওভুক্তির বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক। শুনানির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এখন বড় প্রশ্ন—আগের ফলাফল কতটা বাস্তব ছিল?

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

ফলাফলের ধারাবাহিক পতন এখন শিক্ষা প্রশাসনের সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে—বর্তমান মূল্যায়ন কি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সক্ষমতার কাছাকাছি চিত্র তুলে ধরছে, এবং অতীতে অস্বাভাবিকভাবে বেশি পাসের হার ও জিপিএ-৫ কি সত্যিই শিক্ষার মানের উন্নতির প্রতিফলন ছিল?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুধু পরীক্ষার ফল নয়; শিক্ষার্থীর শেখার সক্ষমতা, শিক্ষকতার মান, পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ—সবকিছুর দীর্ঘমেয়াদি মূল্যায়ন প্রয়োজন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD