সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তিতে থাকছে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ কোটা

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন কোটা পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তৈরি খসড়া নীতিমালায় সরকারি বিদ্যালয়ে ১৪ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ১৫ শতাংশ কোটা রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য খসড়াটি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মাউশি সূত্র জানিয়েছে, ভর্তির খসড়া নীতিমালা ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে বিভিন্ন কোটার পাশাপাশি কোন শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে এবং কোন শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা থাকার কথা রয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, সরকারি বিদ্যালয়ে মোট ১৪ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, যমজদের জন্য ২ শতাংশ এবং সহোদর ভাই-বোনের জন্য ৩ শতাংশ কোটা থাকতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সরাসরি কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৪ শতাংশ কোটা বহাল রাখার পাশাপাশি আরও ১ শতাংশ বাড়তি কোটা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এই অতিরিক্ত ১ শতাংশ লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের জন্য নির্ধারণ করা হতে পারে। তাদের মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দিতে এ কোটা রাখার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় ৪০ শতাংশ আসন
রাজধানীতে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাছাকাছি বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরের সরকারি বিদ্যালয়ে ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধানও বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করে তা সবাইকে জানাবে মাউশি।
এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ভর্তির খসড়া নীতিমালা করেছি। সেটা অনুমোদন দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ে সভা হবে, সেখানে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনে নীতিমালায় কিছু পরিবর্তনও আসতে পারে।’
বিজ্ঞাপন
কোটা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, যমজ, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোটা আগে যেটা ছিল, সেটাই রাখা হয়েছে। সহোদর কোটা বাড়ানো হয়েছে। এটা নিয়ে অনেক রিট ও আইনি জটিলতা দেখা যায়। সার্বিক দিক মাথায় রেখে আমরা এবার ৩ শতাংশ সহোদর কোটা রেখেছি। এতে একই প্রতিষ্ঠানে ভাই-বোনের পড়ালেখার সুযোগ বাড়বে। অভিভাবকদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা কমবে বলে আশা করি।’








