১৮ দিনেই বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ‘অ্যাভাটার থ্রি’

গল্প ও প্লট নিয়ে তীব্র সমালোচনা, অগোছালো বর্ণনা আর অতিরিক্ত দৈর্ঘ্য নিয়ে দর্শকদের অসন্তোষ—সবকিছুকে ছাপিয়ে বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য দেখাচ্ছে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’ সিরিজের তৃতীয় কিস্তি। মুক্তির মাত্র ১৮ দিনের মাথায় বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’।
বিজ্ঞাপন
গত ১৯ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি এখন পর্যন্ত আয় করেছে প্রায় ১০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, সমালোচনার পরেও দর্শকদের একটি বড় অংশ প্রেক্ষাগৃহে টানতে সক্ষম হয়েছে এই ভিজ্যুয়াল-নির্ভর ফ্র্যাঞ্চাইজি।
বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি–এর তথ্য অনুযায়ী, মোট আয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই এসেছে প্রায় ৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বাকি ৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে, যা অ্যাভাটার সিরিজের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক বাজারে বরাবরের মতো এবারও শীর্ষে রয়েছে চীন, যেখানে সিনেমাটি আয় করেছে আনুমানিক ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এরপর রয়েছে ফ্রান্স (৮ কোটি ১০ লাখ ডলার) এবং জার্মানি (৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার)। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে সিনেমাটির দৃশ্যমান প্রযুক্তি ও থ্রিডি অভিজ্ঞতা এখনও বড় আকর্ষণ হিসেবে কাজ করছে।
তবে আগের দুটি কিস্তির তুলনায় ‘অ্যাভাটার থ্রি’ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ঢুকতে কিছুটা ধীরগতি দেখিয়েছে। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘অ্যাভাটার’ ১৭ দিনে এবং ২০১২ সালের ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ মাত্র ১৪ দিনেই এক বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড গড়েছিল।
২০২৫ সালে ডিজনির তৃতীয় সিনেমা হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁয়েছে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’। এর আগে একই বছরে ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ এবং ‘জুটোপিয়া টু’ বিলিয়ন ডলার আয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে।
বিজ্ঞাপন
তবে আর্থিক সাফল্যের বিপরীতে দর্শক প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ মিশ্র। প্রায় ৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমাটি নিয়ে অনেক দর্শকই অভিযোগ করেছেন দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বল সংলাপের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ সিনেমাটিকে সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করেছেন। এমনকি অতিরিক্ত ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীর কারণে গল্পের গভীরতা হারিয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। কিছু প্রেক্ষাগৃহে দর্শক মাঝপথে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুন: আরশকে যেমন ভেবেছিলাম, তেমন নয় : সুনেরাহ
জেমস ক্যামেরনের পরিচালনায় নির্মিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম সিনেমা বিশ্বব্যাপী আয় করেছিল প্রায় ২.৯ বিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় কিস্তি আয় করেছিল ২.৩ বিলিয়ন ডলার, যা দুটিই সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এবার তৃতীয় কিস্তিও দুই বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরোতে পারবে কি না—সে প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চলচ্চিত্রবিশ্লেষকদের মধ্যে।
বিজ্ঞাপন
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন। আন্তর্জাতিক বাজারে দর্শক আগ্রহ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ‘অ্যাভাটার থ্রি’ শেষ পর্যন্ত কতদূর যেতে পারে।








