Logo

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কেন শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ছিলেন আশা ভোঁসলে?

profile picture
বিনোদন ডেস্ক
১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:০৯
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কেন শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ছিলেন আশা ভোঁসলে?
ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আশা ভোঁসলে আর নেই—এই খবরে শোকের ছায়া নেমেছে সংগীতপ্রেমীদের মনে। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি সুরের জাদুতে মুগ্ধ করেছেন কোটি শ্রোতাকে, তার জীবনগাথা ছিল শুধু সাফল্যের নয়, বরং কঠিন সংগ্রামেরও এক অনন্য উদাহরণ।

বিজ্ঞাপন

মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তার জীবনের শেষ অধ্যায় শেষ হলেও, রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি, গান এবং অনুপ্রেরণার গল্প। খ্যাতির ঝলমলে আলোয় মোড়া এই শিল্পীর জীবনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ব্যক্তিগত জীবনের তীব্র টানাপোড়েন ও বেদনার অধ্যায়।

খুব অল্প বয়সেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় আসেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিজের চেয়ে প্রায় ২০ বছর বড় গণপতারাও ভোঁসলে-এর প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করেন। এই সিদ্ধান্ত তার পরিবারে বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি করে। এমনকি বড় বোন লতা মঙ্গেশকরও দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ রাখেন।

বিজ্ঞাপন

বিয়ের পরও সুখের সংসার গড়তে পারেননি এই শিল্পী। শ্বশুরবাড়ির রক্ষণশীল পরিবেশে একজন গায়িকা হিসেবে তিনি সম্মান পাননি। বরং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে নিজেই একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। এমনকি তার স্বামীও চাইতেন না যে তিনি পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।

পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে, যখন তিনি তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন। সেই সময়ই জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি। নিজের ভাষায়, নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের মধ্যে একসময় তাকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে মায়ের বাড়িতে ফিরে আসেন আশা ভোঁসলে—যা তার জীবনের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

তবে এই কঠিন অভিজ্ঞতা তাকে ভেঙে দেয়নি। বরং সেখান থেকেই তিনি নতুন করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার শক্তি পান। পরবর্তীতে তিনি সংগীত জগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন এবং হয়ে ওঠেন ভারতীয় প্লেব্যাক গানের এক অবিসংবাদিত কণ্ঠ।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে কিংবদন্তি সুরকার রাহুল দেব বর্মন-এর সঙ্গে তার বিয়ে হলেও ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই-উতরাই ছিল। তবুও তাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্পর্কের গভীরতা কখনও ম্লান হয়নি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসামান্য অবদানের জন্য আশা ভোঁসলে অর্জন করেছেন ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ এবং ‘পদ্মবিভূষণ’। পাশাপাশি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার তাকে এনে দিয়েছে অনন্য উচ্চতা।

বিজ্ঞাপন

হাজার হাজার গানে কণ্ঠ দেওয়া এই শিল্পী শুধু একজন গায়িকা নন, বরং সংগ্রাম, সাহস ও আত্মপ্রত্যয়ের প্রতীক। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটলেও, তার কণ্ঠ ও জীবনগাথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা জোগাতে থাকবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD